আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আজ সোমবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা দুপুরে প্রাঙ্গণে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে “গভীরভাবে দুঃখজনক” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দুপুরের দিকে সংগঠনের সদস্যরা সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন দেয় এবং ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। পরে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে মিছিল করে চলে যায়। আগরতলার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরেই হিন্দু সংগঠনগুলো বিক্ষোভ ও মিছিল করছিল, যা সোমবার আকস্মিকভাবে সহকারী হাইকমিশনের ওপর হামলায় রূপ নেয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনাকে কোনো অবস্থাতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।’ বাংলাদেশি কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ত্রিপুরার পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।’ ত্রিপুরার হোটেল অ্যাসোসিয়েশনও এক জরুরি সভায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে সব হোটেল পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
রোববার ত্রিপুরা ও আসামের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সংগঠনগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ করেছে। আসামের শ্রীভূমিতে সনাতনী ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে বড় ধরনের প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।
এই হামলা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি চলছে।
