আনিকা খান, কলকাতা থেকে
বাংলা চলচ্চিত্রের নবাগত নায়ক মুন্না খান। কখনো নিজেই হিরো, বর্তমানে কখনো মডেল আবার কখনো প্রযোজক হিসেবে নিজেকে জাহির করতে ব্যস্ত তিনি। দিনশেষে ফলাফল তার জিরো’র খবর পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্রের খবরে জানা গেছে মুন্না খানের প্রথম সিনেমায় পোস্টারের টাকাও তুলতে পারেননি!
মূলত মুন্না খানের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় জাতীয় পুরস্কার পাওয়া চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের মাধ্যমে। যেখানে নায়ক ও প্রযোজক ছিলেন নিজেই।
ছবির নাম ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’। এই ছবিতে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা লগ্নি করলেও তার দাবি ৩ কোটি টাকা বাজেটের ছবি এটি। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে নিজের ছবি নিজেই টিকিট কেটে সবাইকে দেখালেও পোস্টারের টাকা পর্যন্ত তুলতে পারেননি এই ছবি থেকে।
কোটি টাকা খরচে নিজেকে দর্শকের কাছে হাসির পাত্র সাজলেও শেষ পর্যন্ত ধরনা দেন ৪র্থ স্বামী জ্যাকি হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্র্যান্ড প্রমোটার বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তারের। প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেল্লেও পরে সিলেট একটি আলিশান হোটেলে কয়েক লাখ টাকায় ফটোসেশন ৭ম স্বামী হিসেবে ধরা খান তিনি।
এসবের মূল কারণ খুঁজতে গেলে জানা যায়, মুন্না খানের মূল উদ্দেশ্য ২ কোটি টাকা খরচে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করবেন তিনি। যা সাংবাদিক আকাশ নিবিরের বাসায় এসে গোপনে অকপটে তা স্বীকার করেন বর্ষা চৌধুরী নিজে। এমনও বলেছেন মুন্না খান তার ছদ্ম নাম হলেও আসল নাম তার বাবুল মকবুল।
যখন স্বয়ং সাংবাদিক আকাশ নিবিরের স্ত্রী হিসেবে বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তার মগবাজার বাসায় অবস্থান করেন। তখন মুন্না খানের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ এর নাটক করে বন্ধুর পরিচয় দিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নিবার ধান্দা করতে থাকেন বর্ষা নিজে!
এছাড়াও মুন্নার সাথে করা ফটোসেশনসহ সকল কোরিওগ্রাফারদের নামমাত্র টাকা দেননি বলেও জানান তিনি। এমনকি মূল কোরিওগ্রাফারকে অ্যাসিস্ট্যান্ট বলে দাবি করে হাসাহাসি করতে দেখা গেছে তাকে।
এদিকে নায়ক মুন্না খানের সঙ্গে আকাশ নিবিরের দণ্ড যখন চরমে তখন সাংবাদিক আকাশ নিবিরকে শালাবাবু ডাকতে শুরু করেন এবং আকাশ নিবিরকে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হত্যার হুমকি দেন তিনি।
অন্যদিকে এই নবাগত নায়ক এবং রাত-বিরাতে মাওয়াসহ নানান জায়গায় অন্তরঙ্গভাবে মেলামেশাসহ নিজেদের হাসির পাত্রে তৈরী করেন নিজেকে। এতেই মেজাজ হারান বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তারের ৫ম স্বামী আকাশ নিবির এবং বর্ষা চৌধুরীকে ১৬ তারিখ রাতে বাসায় এনে মাফ চাওয়ার প্রমাণ মিলেছে দারোয়ানের কাছ থেকে।
এরআগে বর্ষা চৌধুরী নিজের ফেসবুকে প্রোফাইলে মুন্না খানের সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ ছবি আপলোড করেন। তাতে ক্ষিপ্ত হন বর্তমান স্বামী আকাশ নিবির। সেদিন আকাশ নিবির ছবি দেখে মেজাজ হারালে সঙ্গে সঙ্গে মুন্না খানের সঙ্গে তোলা ছবি সঙ্গে সঙ্গে প্রোফাইল থেকে ডিলিট করেন বর্ষা।
কিন্তু পরের দিন পূণরায় এক সমুচা মুন্নাকে খাওয়াইয়া বর্ষা নিজে খাওয়াতে বাঁধে বিপত্তি আর ভেঙে যায় বর্ষা চৌধুরী – আকাশ নিবিরের সংসার।
কিন্তু মুন্না খান ততদিনে বর্ষা চৌধুরীর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে লিপ্ত হতে থাকেন। এমনকি নিজে বিপুল পরিমান টাকা দিয়ে বর্ষা চৌধুরী বাসা পর্যন্ত বদলাতে সাহায্য করেন। এরপর বের হতে থাকে নানান ধরণের গোপন তথ্য!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাছের একজন জানান, কোটি টাকা খরচ করে কলকাতার কৌশনিকে ঢাকায় এনে হাত পর্যন্ত ধরতে পারেননি তিনি। কলকাতার সেই নায়িকাকে দেন প্রায় ১৮ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। ৯ লক্ষ টাকায় নায়িকা মাহিকেও নিয়ে কাজে রাখতে পারেনি। তাই তার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তার এই নর্ষা চৌধুরী শেষ ভরসা। প্রেমে পড়েছেন তিনি!
তাছাড়া তার তো অভিনয় হয় না৷ হাঁটতে পারেনা। এমনকি তার হাঁটা হিজলার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি!
শুধু তাই নয় সিলেটে এতো আয়োজনে বর্ষার সঙ্গে তার শারিরীক সম্পর্কের কথাও তুলেছেন তিনি। প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ টেস্টের দাবি করেন এই লোকটি। এমনকি একটি ১০ সেকেন্ডের অশ্লীল ভিডিও দিবার কথা স্বীকার করেছেন।
মুন্না খানের এতো টাকার উৎস জানতে কাতারে একাধিক সূত্রের খবর নিয়ে জানা গেছে। তিনি মূলত অবৈধভাবে আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ থেকে লোকজন নিজে বিভিন্ন কোম্পানিতে দিয়ে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়েছেন তিনি। সেই টাকার ট্যাক্স বাঁচাতে সিনেমায় লগ্নি করার কথাও উঠে আসে তার নাম।
বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তারের সঙ্গে বেশি মেলামেশার কারণে একাধিক বন্ধুমহল তার থেকেও সরে গেছে। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না তারা। এমনকি কাতারের থাকা আরেক বউ জানিয়েছেন বর্ষা চৌধুরীর সঙ্গে বেশি মাতামাতির কারণে তারও খোঁজ রাখছেন না। তিনি বিভিন্ন সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ঢাকার দিলু রোডের এক লোক তার অফিসে গিয়েও হট্টগোল করেছেন। বিদেশে লোক নেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ এর ব্যাপারে।
গেল কয়েক বছর আগে মুন্না খানের নামে অভিযোগ তুলে এক প্রবাসী জানান, আমাকে মুন্না খানের আইডি আর কাগজ দিয়ে কাতারে নিয়ে আসেন এবং কিছুদিন গেলেও আমাকে কোন আইডি করে দেননি। পরে আমি দেশে ফেরত আসি। তার ঠিকানাও চেয়েছেন একাধিক মানুষের কাছে।
গেল কয়েক বছরে ৬ লাখ টাকা করে ৬০০ লেবার কাতারে নিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা কামিয়েছেন বলেও তার নামে অভিযোগ উঠে এসেছে! যাহা দুদক অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে বলে কথা উঠেছে!!
মুন্না খান শুরু থেকেই বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ২ হাজার টাকা ভাড়া করে ইন্টারভিউ দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি কাতারেও মাত্র ৪জন সাংবাদিক নিয়ে সাংবাদিক আকাশ নিবিরের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। যেখানে আকাশ নিবির সাংবাদিক কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আবার বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তারকে স্টার উপাধি দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন বর্ষা চৌধুরী ৫০-৬০ টি হিট গান যা বাজারে ঘুরাঘুরি করছে।
এছাড়াও লাইভ করেছেন নিজের বাসা ও বাথরুমে পর্যন্ত যেখানে প্রমাণ করতে মরিয়া কাতারে তার কোন বউ নাই। কিন্তু তার সকল প্রমাণের অডিও আমাদের কাছে চলে এসেছে। এবং একটি মেয়ের অডিও বার্তায় জানা গেছে মুন্না খানের সঙ্গে সবাই নাকি সেক্স করতে চান!!!
মুন্না খানের কাছের এক সাংবাদিক এস নামে তিনি জানান, মুন্না খানের এ সকল বিষয়ে তিনিও বিরক্ত! কারণ তিনি আর বর্ষা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছেন। তবে তাকে সরাতে একটু সময় লাগবে।
নাম প্রকাশে আরেকজন সিনিয়র চলচ্চিত্র পরিচালক জানান, মুন্না খানকে লু্চ্চা বলেও আখ্যায়িত করেছেন!
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক আকাশ নিবির জানান, বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তার যখন আমার বউ তখন তিনি নিষেধ করার কারণে চুপ ছিলাম আর মজা নিয়েছি। মুন্না খান আমাকে সেই সময় সালাবাবু ডাকতেন। এখন আমার বোঝা হয়েছে ঠিক আমার মতো ১০ লক্ষ টাকার কাবিনে কোর্টে গিয়ে তিন পাতার ৩০০ টাকা স্ট্যাম্পে সিগনেচার করে তারা বিয়ে করেছে শুধু এই মুন্না খানের কোটি টাকা হাতিয়ে নিবার জন্য।
যে সেম ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটেছে। এটির প্রমাণ একদিন পাবে সবাই। তাছাড়া কেয়ারিং জামাই হিসেবে মুন্না খানকে বর্ষা বলার কারণ আছে তো। প্রথমদিন মুন্না খান বর্ষাকে ২ লক্ষ টাকার স্বর্ণের ব্যাচলেট উপহার দিয়েছেন এবং ছেলে ও মেয়েকে ৫ হাজার নগট টাকা গিফট করেছেন।
আকাশ নিবির আরও বলেন, এখন চেষ্টায় আছেন আমাকে বিয়ে করেনি আর বাসর হয়নি প্রমাণ করার! এরপর দেখবেন মুন্না খানকে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন। এগুলো বলে আর হবে না। আমি আইনের দারস্থ হয়েছি। সব কিছুর সত্য তার প্রমাণ একদিন হবে। ২০২২ সালের কাবিন যদি ২০২৫ প্রমাণ করতে পারি। আমারটাও প্রমাণ হবে ইনশাআল্লাহ।
মুন্না খানের দেশের বাড়ী বরিশালে। দীর্ঘদিন কাতারে ব্যবসা করেন। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তান আছে বলেও জানা গেছে।
