দেশের এই মহামারী করোনা ক্রান্তিকালে সবাই যখন নাস্তা নাবুদ। তখন দেশিও এক ইউটিউব কোম্পানী ও দেশের স্বনামধন্য টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানী একটি টিভি চ্যানেলের এ্যাপস্ আনতেই এসব পায়তারা চালাচ্ছে! টাকার বিনিময়ে দেশের সু-পরিচিত আর্টিষ্ট্রের মুখে ডায়লগ লাগিয়ে দিচ্ছেন ‘আমার জামায়ের অনেক টাকা, হেয় বউও চো’-, মাগীও চো’-‘। আর এই কথাটি সোস্যাল মিডিয়াতে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। তা নিয়ে বেশ সংকিত রয়েছেন লক-ডাউনে থাকা পরিবারগুলি। কেননা তারা নিজ বাসায় বসে বসে পরিবারের সঙ্গে টিভি দেখতে দেখতে ওগুলি ভেতরে চলে আসছে।
এই বিষয় নিয়ে বাবুল নামে (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমি ও আমরা এই টাকা ৬০ দিনের লক-ডাউন পার করছি এই ইন্টারনেটে টিভি আর ইউটিউব দেখে। সেখানে ছেলে মেয়ে সবাই যুক্ত থাকেন। কিন্তু হঠাৎ করে এই ক্লিপটি সবার সামনে চলে আসে। সেই ডায়লগটি অভিনেত্রী অহনার মুখে শুনে আমি নিজের তাজ্জব হয়ে গেছি। পরে আমার ছেলে মেয়ে সেইখান থেকে উঠে চলে গেছেন। এ লজ্জা আসলে আমরা বাঙ্গালী জাতির। ছিঃ।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে কি যাদের হাতে কাজ নেই, তাদের দিয়েই এই পর্ণ ওয়েব সিরিজগুলিতে কাজে লাগাচ্ছেন! নাকি অসহায় এই দেশিও আর্টিষ্ট্ররা!! তা শুধুই এখন প্রশ্নবিদ্ধ?’
বর্তমানে চলচ্চিত্রের বাজার মন্দা হলেও নাটকের বাজার বেশ চাঙ্গা রেখেছেন আফরান নিশাে, অপূর্ব, মোশারফ করিম, জাহিদ হাসান, আ.খ.ম হাসান, তাহসান, জোবহান, তৌসিফ এর মতো অনেক অভিনেতারা। সেখানে দেশের তরুণ নির্মাতা আর কিছু এজেন্সীর সহযোগীতায় নাটকের মান বেশ আকাশ চুম্বি। বেশ কয়েক বছর আগেও সস্থা নাটকের বাজেট ১ লক্ষ টাকা থাকলেও তা বর্তমানে ৫-১০ লক্ষ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে নিঃশ্বাস না ফেলে অনেক নির্মাতা কাজ করছেন দিনের পর দিন।
যাদের মধ্যে ভাল মান ও ভাল গল্পের কাজ করছেন, মোস্তফা কামাল রাজ, মাইদুল মাহিম, রুবেল হাসান, অমি, রাফাত মজুমদার রিংকু, রাইসুল তমাল, রাকিব শাহ মোহাম্মদসহ আরিয়ানের মতো গুণি নির্মাতারা। এছাড়াও অনেক নির্মাতাই নিজের বুদ্ধি আর দক্ষতায় পুরো টেলিভিশন মিডিয়াকে। যেখানে কোন অশ্লিল সংলাপের বিন্দু পরিমান সৃষ্টি নেই। আর এই দর্শকগুলি তাদের নাটকগুলি লুফে নিয়েছে টিভি ও ইউটিউব চ্যানেল গুলিতে। তাহলে কেন তাদের ভাইরাল ফন্দি!
নাম প্রকাশে এক টিভি নাট্যকার জানান, ‘ভাইরাল ইস্যু আসলে একটি ধান্দাবাজী ইস্যু। তাদের দিয়ে কিছু কোম্পানী হয় ফায়দা লুটে নিচ্ছেন। তাতে তাদের ক্যারিয়ারে বারটা বেজে দিচ্ছেন। কাউকে ছোট করে বলছি না। সর্বপ্রথম ইত্যাদিখ্যাত শিল্পী ‘আকবর’ এর কথা বলি। এরপর মানুষের ইমোশনের কথা বলতে গেলে নোলক আর ক্লোজআপের শিল্পী সাজু’র কথা বলি। কই আছেন তারা বাজারে টিকে? অন্যদিকে ভাইরান গান নিয়ে অপরাধি মেয়ের একটি শিল্পী এসেছিল। তিনি কি এখনো বাজারে আছে? আমার মনে পড়ে না। শুধু মাত্র এটিএম সামসুজ্জামান ভাইয়ের কথায় তার মিলিয়ে বলতে চাই ‘যে লিফটে উঠবে তাকে কিন্তু দিন শেষে লিফটেই নামতে হবে। যে লিফট ছাড়া সিঁড়ি বেয়ে উঠবে সে সিঁড়ি দিয়েই নামবে।’ তার চাক্ষুষ প্রমাণ, জেমস, আইয়ূব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎসহ হাজার শিল্পী। যাদের গান সারা জীবন অম্লীন।’
এমন এমন সব আবাল মার্কা হাতুরে কন্টেন্ট নিয়ে সাংবাদিক তির্থক হোসেন রুবেল নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি প্রতিবাদি পোস্ট দিয়ে লিখেন, ‘গল্পের প্রয়োজনে যৌনতা আসছে। কত শৈল্পিকভাবে যৌনতা দেখানো গেছে সেটাই বিষয়।
ছেলে: আই লাভ ইউ
মেয়ে: তুমি কি ভাবছো! আমি ইয়েস বলি আর তুমি কাল থেকে নিয়মিত মাগনা চু’- যাও!
গল্পের প্রয়োজনে সংলাপও এমনই হবে।
ধর্ষণ দৃশ্য দেখিয়ে ধর্ষণ বিভৎস বুঝাতে হবে! একদম যেভাবে ধর্ষণ হয়, সেভাবেই দেখাতে হবে! কারণ আপোষহীন পরিচালক। এক সাংবাদিক বড় ভাই গতকাল পোস্ট দিলো ওয়েব নিয়ে চলমান বিতর্কে যাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তারা নাকি স্বপক্ষে সাফাই গাইতে পিআর নিয়োগ দিয়েছে।
নারী-পুরুষ একটা রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলেই বাকিটা বুঝে চলে আসে। তারপর মিনিট ধরে রুমের ভেতরের কার্যক্রম দেখাতে হয় না। একটা মেয়ের মুখ চেপে রাস্তার পাশে অন্ধকারে নেয়ার দৃশ্যতেই বোঝা যায় কি হলো। তারপর ডিটেইলিং দরকার পড়ে না। আপনি খুব বিভৎস এবং অমানবিক কর্ম হিসেবে দেখাতে চাইলে প্রকৃতির সাথে সাথে মেয়েটার কান্না-চিৎকার-ধর্ষকের কাথাবার্তা ইত্যাদি নানা শব্দ দিয়েও মোমেন্ট স্টাবলিশ করতে পারেন। সবই আপনার সৃষ্টির দক্ষতা, যোগ্যতা এবং ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। সামনে বলেন নেটফ্লিক্স আর মনে যাপন করেন নেটফ্লিক্সের উল্লু ভার্সনটুকু।
না দেখিয়ে বলতে পারাটা যোগ্যতা। দেখাতে তো গরু-ছাগল-ভেড়াও পারে। তার জন্য আপনার মতো শিক্ষিত-দূর্দান্ত নির্মাতাকে মোটা টাকা দেয়ার তো দরকার নেই! যদি না আপনি নিজেকে সেই ভেড়াদের একজন না বোঝান!
আপনার কাজ নিয়ে হাজারো ভক্ত গর্বিত আর আপনার কাজ নিয়ে আপনার মা গর্বিত… এ দুটোর কোনটাতে আপনি নিজে গর্বিত হবেন!…
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে টাইমস বাংলাদেশ সহ একাধিক অনলাইন নিউজে ঝালাপালা হয়ে মাত্র একটি কন্টেন্ট ‘সদরঘাটের টাইগার’ নামালেও সেই চ্যানেলে রয়ে গেছে ট্রেইলের ‘আমার জামাইয়ের অনেক টাকা, হেয় বউও চো-, মাগীও চো-‘ যদিও এতোটুকু ছাড়া সেখানে দেখানোর আর কিছুই নেই! এছাড়াও প্রশাসনের চোখে মুখে ফু’দিয়ে পরবর্তি কন্টেন্ট ‘বুমেরাং’,’আগস্ট-১৪’ তারা নিজেদের তথ্যবধায়নে টিপিডিবি লিখা মাঝখানে লাগিয়ে হাজার হাজার ইউটিউব চ্যানেলে ভাইরাল করে দিয়েছেন। অন্যদিকে বাজারে বিজ্ঞাপন ছেড়ে দিয়েছেন ওই বুফেক্স (প্রতিকী নাম) নামে টিভির সাথে আন্ডার এ্যাপস পাওয়া যাবে!! তবে এর পিছনে মূল হোতা একাধিক সাংবাদিক টাকার বিনিময়ে পিআর গিরি করে মিডিয়ার বারটা বাজিয়ে দিচ্ছেন বলে একটি বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে… চলবে
https://youtu.be/thxgDS9dNzY
