ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের যুব মহিলালীগের নেত্রী বর্ষা চৌধুরী। বর্তমানে একাধিক বিয়ে করে সমালোচনার স্বীকার হয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্র অভিনেতা রাসেল মিয়াকে পঞ্চম বিয়ে করে আলোচনায় আসতে দেখা যায় তাকে। ইতিমধ্যে তার ১৬ বছর বয়সে জলিল মিয়ার নামে মিথ্যা জেল আর এসিড নাটক, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনাসহ নানান মিথ্যাচার ধরা পড়লেও একের পর এক তথ্য দেশবাসীর কাছে পরিস্কার হতে দেখা যাচ্ছে বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তার একজন সিরিজ মিথ্যুক।
এবার তার নামে পাওয়া গেল নতুন অভিযোগ। মুম্বাই প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর থেকে ১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে বর্ষা চৌধুরী ওরফে সোমা আক্তারের নামে। এমন অভিযোগ তুলেছেন নোয়াখালীর আকবার আলী শেখ নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, ২০০৩ সালের মাঝামাঝি ফেসবুকের আদলে কথা হয় এই বর্ষা চৌধুর সঙ্গে। কিছুদিন তাদের ইনবক্সে কথা হলে বর্ষা তাকে পরিবারের ক্রাইসিস এবং মিথ্যা শুটিং এর কথা বলে দেড় লক্ষ টাকা ধার চান এবং সেই সঙ্গে কান্নাকাটির কথা জানান আকবার আলী শেখ নিজে। পরে তিনি তাকে ১ লক্ষ টাকা দেন। পনেরদিন পর টাকা ফেরত চাইলে আজ-কাল-পড়শু বলে ঘুরাতে থাকেন। বিএনপির রাজনীতি করেন বলে তিনি টাকা না দিয়ে ব্লক করে দেন এবং তার পেজ হ্যাকারের মাধ্যমে গায়েব করে দেন বলেও জানান এই মুম্বাই প্রবাসী ব্যবসায়ী আকবার আলী।
তিনি এছাড়াও সাংবাদিক আকাশ নিবিরের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি লাইভে এসে তার বর্ণনা তুলে ধরেন। লাইভ ভিডিও লিংক… https://web.facebook.com/61558708450627/videos/982709557117689
আকবার আলী শেখ বলেন, আমি আপনার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই। বর্ষা চৌধুরী একজন প্রতারক। তার শাস্তি দাবি করছি আগামী রমজান মাসে এসে আইনের দারস্ত হব। সে শুধু আমার সঙ্গে নয় এমনটি অনেকের সঙ্গে এমনটি করেছেন। কেউ হয়তো লজ্জায় বলতে পারে না। কিন্তু এদের প্রতিহিত করতে হবে। যেন কোন প্রতারক এমন কাজ আর সামনে করতে না পারেন।
অন্যদিকে নায়ক রাসেল মিয়ার বিয়ের ৪ মাস পর কোর্টের মাধ্যমে আবার গোপনে বিয়ের কথা উঠে আসে বিনোদন সাংবাদিক আকাশ নিবিরের নাম। পরে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করতেও দেখা যায় তাকে! যদিও তার নিজস্ব আইনজীবীর মাধ্যমে তা সরিয়ে রেখেছেন বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে বিয়ের একমাস না যেতেই সঙ্গীত শিল্পী সানীকে গোপনে প্রেম বিয়ে ও অনৈতিক প্রস্তাব দেন তিনি এবং মুঠোফোনে অভিনেতা ডিএ তায়েবের নামে নানান মিথ্যা ভিত্তিহীন কথা ছড়ানোর অভিযোগ উঠে আসে তার নামে।
এ প্রসঙ্গে শিল্পী সানী বলেন, এই বর্ষা চৌধুরীর অনেক আগে গানের মাধ্যমে পরিচয় হয় আমার স্টুডিওতে। সেখানে একটি বিষয় নিয়ে আমার পা ধরে ক্ষমা চান। এরপর বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে আইডি ডিজেবল করান তিনি। সানী আরও বলেন, আমার উপর প্রতিশোধ নিতে গেল ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ এ আমাকে নানানভাবে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রস্তাব এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এছাড়াও আমার কাছে অভিনেতা ডিএ তায়েবের নানান মিথ্যাচারের একটি অডিও প্রকাশ করলে আমি তা সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে অবগত করি। ইতিমধ্যে প্রমাণ পেয়েছেন দেশবাসী। যাহা খুবই দুঃখ আর লজ্জাজনক। এছাড়াও তার আরও একাধিক অডিও আমার কাছে সংরক্ষণ আছে।
বর্ষা চৌধুরীর ৫ম স্বামী বিনোদন সাংবাদিক আকাশ নিবির জানান, চলচ্চিত্র অভিনেতা রাসেল মিয়ার মামলা-হামলা-ঝামেলার সময় তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালে পরবর্তীতে আমাকেও বিয়ে করে বিপদে ফালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। আকাশ নিবির আরও জানান, গেল ২৯ অক্টোবর ২০২৪ এ তার নিজস্ব আইনজীবীর মাধ্যমে জাল বিয়ে আর কাজীর মাধ্যমে মোনাজাত পড়িয়ে আমার বাসায় গোপনে বাসর সারেন তিনি।
বর্ষা চৌধুরী প্রসঙ্গে প্রযোজক হিমেল জানান, এই মেয়েটি এসিড দগ্ধ বলে বলে মানুষের একটা আবেগের জায়গা তৈরী করেছে। বাস্তবে অনেক খারাপ একটি মেয়ে এই বর্ষা চৌধুরী নামের মেয়েট। তাকে আমি চিনি আমার এক বন্ধু আইনজীবীর মাধ্যমে। তার দ্বিতীয় বিয়ে রুমি রহমানের সঙ্গে। পরে আমার বাসায় বাসর হয়েছিলো। বাসায় দুই-তিনদিন রান্না করেও খাইয়েছি তাদের। এরপর একদিন বাবার অসুস্থতার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। আজকাল বলে বলে টাকা পরিশোধ না করে ফোন বন্ধ করে তিন বছর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে যখন রাসেল মিয়ার সঙ্গে বিয়ের কথা জানতে পারি তখন অল্প অল্প করে সেই টাকা পরিশোধ করে বাকি পাঁচ হাজার টাকা এখনো দেননি তিনি!
ইতিমধ্যে বর্ষা চৌধুরীর নামে দুইটি হত্যা মামলার হদিস পাওয়া গেছে। একটি তৃতীয় স্বামী গলা কেটে হত্যা ও রামপুরা ফ্যাসিস্ট সরকারের জ্বালাও পোড়াও হত্যায় মামলায় হাতিরঝিল থানায় মামলাটি চলমান রয়েছে। এছাড়াও ধানমন্ডি মডেল থানাসহ একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি কথাও জানা গেছে।
গেল কয়েক বছর ডিএ তায়েবকে ব্লাক মেইল করে করে একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়েছেন বলেও জানা গেছে। কখনও টাকা পয়সা আত্মসাৎ, আবার কখনো স্বর্ণ চুরির আবার কখনো জুতা চুরির অভিযোগ উঠে এসেছে তার নামে।
সর্বশেষ ধানমন্ডি মডেল থানায় বর্ষা চৌধুরীর নামে একটা প্রতারণার সাধারণ ডায়েরি করেছে পিয়াল নামের একজন। তার ভাষ্যমতে, একটি মেলার জন্য চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম ও নায়িকা অপু বিশ্বাসের নাম দিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ আত্মসাৎ এর কথা জানা গেছে। যা ইতিমধ্যে তিনটি মামলা করবেন তিনি।
