বরিশালে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মার্কেট ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করার পরও ঘরমুখি করা যাচ্ছে না নগরবাসীকে। এমন অবস্থায় শর্পিং সেন্টার ও বিপণী বিতানগুলোতে ভ্রাম্যমাল আদালত পরিচালনা করেছেন জেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় পালিয় থাকা ১৫- থেকে ২০ জন ক্রেতা মার্কেটের গোডাউন ও টয়লেট থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তাদের সতর্কবার্তা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে চকবাজারের ব্যবসায়ীরা খেলছেন চোর-পুলিশ খেলা। অন্যদিকে ঈদের মার্কেট করতে আসা পুরুষ ক্রেতাদের চেয়ে বেপরোয়া নারী ক্রেতাদের কোনভাবেই আটকাতে পারছেনা মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটরা বাহিরে আসার কারণ জানতে চাইলে দেখাচ্ছেন তারা নানা অজুহাত।
মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে নগরীর সকল মার্কেট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা করার পরও সকাল থেকে নগরীর চকবাজার, পদ্ধাবতী কাটপট্রি,গ্রিজ্জা মহল্লা ও ফজলুল হক এ্যাভিনিয় এলাকার হাজি মহসিন মার্কেটে বিগত দিনের মত ভিড় দেখা যায় চোখে পড়ার মত।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে ব্যবসার ধারণ পাল্টিয়ে নতুন পদ্ধতিতে বেচা-বিক্রি করতে দেখা যায়। দোকানের সামনে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দাঁড় করিয়ে রেখে ক্রেতা ভিতরে পাঠিয়ে দিয়ে পুনরায় সামনের সাটার টেনে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে।
এসময় তারা গণমাধ্যম কর্মী ও প্রশাসনের লোকজন দেখা মাত্রই দোকান বন্ধ রেখে সামনের সড়কে হাটা চলা করে ক্রেতাদের মত করে।
এসময় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের ম্যজিষ্ট্রেট রুমানা আফরোজ চকবাজার এলাকায় বেশকিছু নারী ক্রেতা, মোটরবাইকে ৩জন নিয়ে চলাচলের সময় তাদেরকে চরম সতর্কবার্তা প্রদান করেন।
এসময় তিনি হঠাৎ করে চকবাজারের নিউ বিশ্বশ্রী নামের একটি বন্ধ দোকানের সামনে এস অবস্থান নেয়। পরবর্তী দোকান মালিক নাটকিয়ভাবে এসে হাজির হলে তাকে দোকানের তারা খুলতে বলে সেসময় দোকান মালিক তালা খুলে ভিতরের সামনে কোন ক্রেতা পাওয়া না গেলেও দোকানের শেষ প্রান্তে রয়েছে তালা মারা শাড়ির শোরুম এসময় দোকান মালিকের কাছে জানতে চাওয়া ওটা কিশের রুম তখন তারা বলেন বাথরুম তখন তাকে বাথরুরেমর তালা খুলতেই দেখা যায় শাড়ির শোরুম রয়েছে মহিলা-পুরুষ ও শিশু সহ ১৫ থেকে ২০ ক্রেতা এবং দেখা যায় তারা সকলেই কাপড়-শাড়ি ফোড়ক কিনে বসে আছে শুধু বেড় হয়ে যাবার অপেক্ষায়।
মোবাইল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে মিথ্যা কথার আশ্রয় নেয়ার অপরাধে তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা একদল সেনা সদস্য ও র্যাব সদস্য নিয়ে নগরীর একধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বন্ধ ঘোষণার প্রথম দিনে জরিমানার চেয়ে মানবিক বিবেচনায় সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও সড়কে জনসমাগম শূন্যের কোঠায় আনার জন্য মাইকিং করেন।
একই সময় একাধিকবার নিষেধ করার পরও দোকান খোলা রাখার অপরাধে নাজমুল হুদা কয়েকটি দোকান মালিককে জরিমানার আওতায় আনা হয়।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা করোনা প্রতিদরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আজ আবার হঠাৎ করে মার্কেট বন্ধ করার কারণে হয়ত অনেকে জানে না। সে কারণে আজকে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
এখনো যে কয়টাদিন আছে সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন থেকে পথচারী ও ক্রেতা সাধারনকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।
এমনকি আইন অমান্য করার অপরাধে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হতে পারে। ক্রেতাদের অবশ্যই বুঝতে হবে ঈদ পাওয়া যাবে কিন্তু তারা যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে শুধু সে নয় তার গোটা পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে একথা তাদের বুঝতে হবে।
