বিনোদন প্রতিবেদক : বগুড়ায় আদালত চত্বরে মারধরের শিকার হয়েছেন আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। তাকে কান ধরিয়ে উঠ-বস এবং মারধর করা হয়েছে। বিএনপির লোকজন তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মার খাওয়ার পর হিরো আলম বলেন, দেশ এখনও স্বাধীন হয়নি। প্রথমে ভুল করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ২০২৩ এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার চলে গেছে। আমরা এখন সবাই স্বাধীনভাবে চলব। কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়নি। পরে তাকে ২০২৪ সালের কথা মনে করিয়ে দেন।
কিন্তু একটি সূত্র বলছেন ভিন্ন কথা। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাই হিরো আলম। সাবেক সেই সরকারের নজড়ে আসতে কখনো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান আবার কখনো পদ্মা সেতু নিয়ে গান গাইতে দেখা গেছে। গেল বছর ‘বাজি’ নামক ওয়েবফিল্মের শুটিং এর সময় কাছের এক সাংবাদিককে এ কথা বলেন। তার মূলত ইচ্ছা ছিল, সেই স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের হয়ে এম.পি নির্বাচন করা। হিরো আলমের নিজ গ্রামে মেম্বার নির্বাচনের হারার পর থেকে এমন ক্ষোভ তৈরী হয় তার।
সূত্রটি বলেন, আলমকে নিয়ে কারও তেমন মাথা ব্যাথা না থাকলেও নজরুল সঙ্গীত ব্যঙ্গ করায় ডিবির চোখে পড়েন তিনি। এছাড়াও ইউটিউবে অশ্লীল কন্টেন্ট তৈরীর বিষয় নিয়ে তাকে হাতিরঝিল মহানগর প্রজেক্ট থেকে সকাল ৬ টায় ডিবি তুলে নিয়ে যায়। তার থেকে নজরুল সঙ্গীত গাইবেনা বলে লিখিত স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিল। ডিবিতে তুলে নিয়ে যাবার ঘটনা গণমাধ্যমে জানাজানি হলে তাকে পরের দিন সেখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। তাৎক্ষণিক ডিবি প্রধান হারুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট বলার চেষ্টা করেন। তাতে ভয় পেয়ে যান ডিবি প্রধান হারুন। এরপর চলচ্চিত্র অভিনেতা চিকন আলীর অশ্লীল ভিডিও ধারণের এক অভিযোগের মাধ্যমে হিরো আলমকে দিয়ে নানান ধরণের নাটক সাজান এই ডিবি প্রধান হারুন এবং তাকে দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চালান বলে গতকাল বগুড়ায় সাংবাদিকদের সামনে এ কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
হিরো আলম বলেন, আমাকে এবং আমার পরিবারকে জিম্মি করে রিজভী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছিল। এই কথা আগেও বলেছি। এরপরও আমাকে আদালতের মতো জায়গায় আপনাদের সামনে পেটানো হলো। যারা এই হামলা করেছে তাদের সবার ফুটেজ আছে। শনাক্ত করে এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কান ধরিয়ে উঠ-বস এবং মারধর করার পর আলম বলেন, এক স্বৈরাচারের পতনের পর আরেক দল নিজেদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করেছে। এইটা কি স্বাধীনতা? প্রকাশ্যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো। আমি কখনও তারেক জিয়াকে নিয়ে কটূক্তি করিনি।
তবে হিরো আলম নিজে শহীদ জিয়াউর রহমানকে ব্যঙ্গ করাসহ বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। যা এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রমাণ স্বরূপ রয়েছে। জানা গেছে, ডিবি হারুনের বুদ্ধিতে বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ নামের একটি সংগঠনে যোগদান করেন হিরো আলম। এরআগে আওয়ামী সরকারের বিপক্ষে কথা বলে জনগণের হৃদয়ে জায়গা করেই নিয়েছিলেন আলম। কিন্তু শেষে এসে সব তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন তিনি।
ইউটিউব লিংক – https://www.youtube.com/watch?v=6Ub-o_ZZzq4
