বিএনপির শহর হিসেবে ধরা হয় বগুড়া শহরকে। তাই নানান হয়রানি আর বিচার ব্যবস্থায় বেহাল দশা হিসেবে দায় করেছেন কেউ কেউ। আসলে কি তাই। নাকি প্রত্যেক জেলার জন্য সরকার নানান সুবিধা বেঁধে দিয়েছেন। নাকি শুধু বগুড়ায় বিচার ব্যবস্থা বেহাল দশা, সহজে জামিন পাচ্ছেন না কেউ! অথচ এতো বাজে পরিস্থিতির পরও জেল কারাগারের ভিতরে জমে উঠেছে জেল ক্যান্টিন ব্যবসা? অনেকের ভাষ্যমতে জেলা কারাগারের জেলার গোপালগঞ্জের হওয়ায় জমে উঠেছে ভিতরের ক্যান্টিন ব্যবসা। যেখানে জেল পুলিশ দিয়ে ক্যান্টিন চালানো হয়। যাহা প্রতি মাসে শুধু লভ্যাংশ গোনা হয় প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। এই টাকা আসলে কে পান আর কোন কাজেই বা ব্যয় করা হয়।
এছাড়াও ছোট খাটো মামলায় জামিন নিতে হয় হাইকোর্ট থেকে। এছাড়া সেখানেও রয়েছে ভোগান্তি। কোন ব্যক্তি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও জজ কোর্টের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিতে ঘুরতে হয় ৩-৪ দিনের মতো।
অন্যদিকে নতুন কোন মামলায় কোন আসামী ভিতরে প্রবেশ থেকে তাকে নানানভাবে হয়রানিসহ যে কোন পেশা আর নানান বয়সী আসামীকে তল্লাশির নামে তাকে অর্ধ লগ্ন করেও তল্লাশির ঘটনার কথা শোনা গেছে।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক হিলি বর্ডারের একজন মাদক মামলার আসামী রবি (ছদ্মনাম) তিনি জানান, ’আমার নামে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। দুইটি গাইবান্ধা জেলা সদরে আর একটি বগুড়া জেলা শহরে। আমার মামলার বয়স ১৭ মাস চলমান। গাইবান্ধার মামলা ৩ মাসে জামিন হলেও বগুড়ার মামলা ১৭ মাসের কোন সুরহা হচ্ছে না। প্রতিমাসে দুই জেলায় ঘুরতে ঘুরতে প্রায় অসুস্থ হয়ে গেছি। বাকি দুইটি মামলার জামিন হলেও বগুড়ার এই একটি মামলা আমাকে হতাশ করেছে। আমাকে কোর্টে পর্যন্ত তোলা হয় না। পুলিশ গাড়ী দিয়ে শুধুমাত্র কোর্ট কাচারী পর্যন্ত নেয়া হয়। এরপর আবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বগুড়ার তুলনায় গাইবান্ধা জেলে দ্বিগুণ ভাল থাকি। বগুড়ায় আসলেই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ি।
গাইবান্ধায় ৪০০-৫০০ আসামী থাকলেও বগুড়া জেলা কারাগারে প্রায় ১৭০০-১৮০০ আসামী রয়েছে। এতাে আসামীর মধ্যে অসুস্থ হবারই কথা। এছাড়াও বগুড়ায় ১৫ দিন পর পর আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করা আর ৭ দিন পর পর ১০ মিনিট ফোনে কথা বলাটা আরেক অমানুষিক যন্ত্রণা। কিন্তু দেখুন গাইবান্ধায় তা নয়। তাহলে কি আমাদের বগুড়া বিএনপির শহর বলেই এতো অমানুষিক অত্যাচারে কেন রাখতে হবে। অথচ আমি নিজেও ছাত্র লীগের একজন একানিষ্ঠ কর্মী। আপনারা অনেক জেল কারাগারে খরব নিয়ে দেখুন। সব থেকে অমানুষিক নির্যাতনে রেখেছেন এই বগুড়া জেলা কারাগার। এগুলো শুধু আমরাই সাফাই করছি। সাংবাদিকদের সাথে তারা সুন্দর সুলভ আচারণ করেন। তাদের কিন্তু ভিতরে আসতে দেন না। আর যদি কোন বাইরের কেউ জেল পরিদর্শন করতে আসেন সেইদিন সবকিছু গোছগাছ করে দেখানো হয়। তাই বলবো সাংবাদিকদের কৌশলে আসামী হয়ে ভিতরে আসা উচিত তাহলেই ভিতরের বাস্তব চিত্র চোখে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। নানান মিথ্যা মামলায় আরও কতো আসামী ধরা হবে। তাতে করে জেলখানায় লোকবল বাড়বে। খুঁজলি পাচরা চুলকানিসহ এখনই যতো রোগবালাই। তাতে করে আরও সামনে নানান ধরণের অসুস্থার ভয় করছি। সংসারে বাবা-মা নেই। একমাত্র বউ মেয়ে নিয়ে সংসার। এর আসলে শেষ কোথায়। আরও কতোদিন এই ভোগান্তি পোহাতে হবে উপরআয়ালা ছাড়া কেউ জানেন না। নিজের কাছে মাঝে মাঝে খুব কষ্ট লাগে! কেন জন্ম আমার বগুড়া জেলায় হলো!!
বগুড়া জেলে প্রায় ১৮শ এর মতো আসামী চোখে পড়লেও প্রতিদিন গড়ে জামিন পায় ১০-১৫ জনের মতো। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জেলা গাইবান্ধায় তার ভিন্ন চিত্র। যেখানে ৪০০-৫০০ আসামীর কম থাকা সত্ত্বেও গড়ে জামিন পায় ২০-৩০ জনের মতো। এছাড়াও একাধিক গাছে গাছে ঝুলানো রয়েছে হাতকড়া। যেখানে যে কোন অপরাধে দেয়া হয় অমানুষিক নির্যাতন। যেটাকে মানবিধিকার লঙ্ঘন বলে। বর্তমানে বগুড়া জেলা কারাগারে যে আইন প্রয়োগ করা হয়। সেই আইন ব্রিটিশ শাসন আমলে ছিল কিনা সেটি আসলে দেখার বিষয়। তাতে করে সবার মনে প্রশ্ন আসে ‘আদো কি দেশের মানুষের স্বাধীনতা আছে। নাকি মিথ্যা মামলায় দেশের মানুষের স্বাধীনতা হনন করছেন কোন এক হায়নার দল। আসলে এর শেষ কােথায়?
অন্যদিকে এই বগুড়া জেলা শহরে নারী ও শিশুসহ যৌতুক মামলা দিকে জেলা জজের নড়র বেশি প্রখর। আসামী যে কেউ হলেও মিথ্যা ও হয়রানী মামলাসহ বাদী-বিবাদীর আইনী প্রক্রিয়া ভিন্ন রকম চোখে পড়েছে। বাদীর মিথ্যা মামলা হওয়া সত্ত্বেও বিবাদীর আর্থিক অচ্ছল হবার পরেও তাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করার ঘটনাও চোখে পড়েছে। তাহলে কি বগুড়া জেলা শহর পৃথিবীর আরেকটা গ্রহ…???
