বগুড়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানীর নাম হলো বগুড়া। তাছাড়া বিএনপির শহর হিসেবে ধরা হয় এই শহরকে। কেননা শহীদ জিয়ার নিজ বাড়ী বগুড়ায় অবস্থিত। তাই আওয়ামী সরকারের সময় নানান হয়রানি আর বিচার ব্যবস্থায় বেহাল দশা হিসেবে দায় করেছেন কেউ কেউ। আসলে কি তাই? তবে জেনে নেয়া যাক আসল খবর…
নাকি প্রত্যেক জেলার জন্য সরকার নানান সুবিধা বেঁধে দিয়েছেন। নাকি শুধু বগুড়ায় বিচার ব্যবস্থা বেহাল দশা, সহজে জামিন পাননি কেউ! অথচ এতো বাজে পরিস্থিতির পরও জেল কারাগারের ভিতরে জমে উঠেছে জেল ক্যান্টিন ব্যবসা। সেটি সরজমিনে ভিতর থেকে দেখে এসেছিলেন টাইমস অব বাংলাদেশের এক সাংবাদিক?
সব জেলার থেকে বগুড়া জেলা কারাগারের গোপালগঞ্জের বেশি লােকবল ছিল। সেই জন্য হয়তো হওয়ায় জমে উঠেছে ভিতরের ক্যান্টিন ব্যবসা। যেখানে জেল পুলিশ দিয়ে ক্যান্টিন চালানো হয়। যাহা প্রতি মাসে শুধু লভ্যাংশ হতো প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। পরে তারা সেই টাকা ভাগবাটারাও করে নিতেন তারা।
বগুড়া জেল কারাগারে ছোট খাটো মামলায় জামিন পর্যন্ত নিতে হতো হাইকোর্ট থেকে। এছাড়া সেখানেও রয়েছে ভোগান্তি। কোন ব্যক্তি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও জজ কোর্টের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিতে ঘুরতে হয় ৩-৪ দিনের মতো। মোট কথা অহেতুক হয়রানি করা হতো তাদের।
অন্যদিকে নতুন কোন মামলায় কোন আসামী ভিতরে প্রবেশ থেকে তাকে নানানভাবে হয়রানিসহ যে কোন পেশা আর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নানান বয়সী আসামীদের বগুড়া জেলখানায় মানুষদের লগ্ন করে তল্লাশি করা হতো!
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক হিলি বর্ডারের একজন মামলার আসামী রবি (ছদ্মনাম) তিনি জানান, ’আমি বিএনপি করি বলে আমার নামে তিনটি মাদক মামলা দেয়া হয়েছিল। দুইটি গাইবান্ধা জেলা সদরে আর একটি বগুড়া জেলা শহরে। আমার মামলার বয়স ১৭ মাস চলমান। কোন জামিন দিচ্ছেন না তারা। জামিন চাইলে বলে আমাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে হবে। কিন্তু আমি তা করিনি। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছিলাম। আজ তার বিচার পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধার মামলা ৩ মাসে জামিন হলেও বগুড়ার মামলা ১৭ মাসের কোন সুরহা হচ্ছে না। প্রতিমাসে দুই জেলায় ঘুরতে ঘুরতে প্রায় অসুস্থ হয়ে গেছি। বাকি দুইটি মামলার জামিন হলেও বগুড়ার এই একটি মামলা আমাকে হতাশ করেছে। আমাকে কোর্টে পর্যন্ত তোলা হয় না। পুলিশ গাড়ী দিয়ে শুধুমাত্র কোর্ট কাচারী পর্যন্ত নেয়া হয়।
এরপর আবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বগুড়ার তুলনায় গাইবান্ধা জেলে দ্বিগুণ ভাল থাকি। বগুড়ায় আসলেই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ি।
গাইবান্ধায় ৪০০-৫০০ আসামী থাকলেও বগুড়া জেলা কারাগারে ছিল প্রায় ১৭০০-১৮০০ আসামী। এতাে আসামীর মধ্যে অসুস্থ হবারই কথা। সারাদেশের জেলখানায় ৭ দিন পর ১০ মিনিট ফোনে কথা বলতে দিলেও শুধুমাত্র বগুড়ায় ১৫ দিনেও ফোনে কথা বলাসহ আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা পর্যন্ত করতে দিতেন না কেউ।
এগুলো বলাটা আরেক অমানুষিক যন্ত্রণা। কিন্তু দেখুন গাইবান্ধায় তা নয়। তাহলে কি আমাদের বগুড়া বিএনপির শহর বলেই এতো অমানুষিক অত্যাচারে কেন রাখতে হবে।
তিনি এছাড়াও বলেন, আপনারা অনেক জেল কারাগারে খরব নিয়ে দেখুন। আমরা বিএনপি করতাম বলে অমানুষিক নির্যাতনে রেখেছেন এই জেলা কারাগার। তারা বাইরে সাংবাদিকদের সাথে তারা সুন্দর সুলভ আচারণ করেন। তাদের কিন্তু ভিতরে আসতে দেন না। আর যদি কোন বাইরের কেউ জেল পরিদর্শন করতে আসেন সেইদিন সবকিছু গোছগাছ করে দেখানো হয়। তাই বলবো সাংবাদিকদের কৌশলে আসামী হয়ে ভিতরে আসা উচিত তাহলেই ভিতরের বাস্তব চিত্র চোখে পড়বে।’
রবি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের নানান মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছিল। তাতে করে জেলখানায় লোকবল বেড়েছে। চুলকানিসহ নানান রোগবালাই এ আমাদেরকে ভুগিয়েছেন। যারা এখন তাদের সাফাই গাচ্ছেন তারা আসলে তাদের চামচা বললেই ভুল হবে। তাদের অন্যকিছু বলাই উচিত।
সংসারে বাবা-মা নেই। একমাত্র বউ মেয়ে নিয়ে সংসার। এর আসলে শেষ কোথায়। আরও কতোদিন এই ভোগান্তি পোহাতে হবে উপরআয়ালা ছাড়া কেউ জানেন না। নিজের কাছে মাঝে মাঝে খুব কষ্ট লাগে! কেন জন্ম আমার বগুড়া জেলায় হলো!!
বগুড়া জেলে প্রায় ১৮শ এর মতো আসামী চোখে পড়লেও প্রতিদিন গড়ে জামিন পেতো ৩-৪ জনের মতো। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জেলা গাইবান্ধায় তার ভিন্ন চিত্র। যেখানে ৪০০-৫০০ আসামীর কম থাকা সত্ত্বেও গড়ে জামিন পায় ৪০-৫০ জনের মতো। এছাড়াও কোন অপরাধ ছাড়াই একাধিক গাছে গাছে ঝুলানো হাতকড়া বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হতো! এগুলির বিচার কে করবে সয়ং আল্লাহ ছাড়া?
তখন কই ছিল মানবিধিকার লঙ্ঘন। তখন বগুড়া জেলা কারাগারে যে পরিমান বেআইনিভাবে আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই আইন ব্রিটিশ শাসন আমলে ছিল কিনা সেটি আসলে দেখার বিষয়। তাতে করে সবার মনে প্রশ্ন আসে ‘আদো কি দেশের মানুষের স্বাধীনতা আছে। নাকি মিথ্যা মামলায় দেশের মানুষের স্বাধীনতা হনন করছেন কোন এক হায়নার দল। আসলে এর শেষ কােথায়?
অন্যদিকে এই বগুড়া জেলা শহরে নারী ও শিশুসহ যৌতুক মামলা দিকে জেলা জজের নড়র বেশি প্রখর। আসামী যে কেউ হলেও মিথ্যা ও হয়রানী মামলাসহ বাদী-বিবাদীর আইনী প্রক্রিয়া ভিন্ন রকম চোখে পড়েছে। বাদীর মিথ্যা মামলা হওয়া সত্ত্বেও বিবাদীর আর্থিক অচ্ছল হবার পরেও তাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করার ঘটনাও চোখে পড়েছে।
তাহলে কি বলাই চলে বগুড়া জেলাই শুধু ছিল পৃথিবীর ভিন্ন আরেকটা গ্রহ…???
বগুড়া প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানীর নাম হলো বগুড়া। তাছাড়া বিএনপির শহর হিসেবে ধরা হয় বগুড়া শহরকে। কেননা শহীদ জিয়ার নিজ বাড়ী বগুড়ায় অবস্থিত। তাই আওয়ামী সরকারের সময় নানান হয়রানি আর বিচার ব্যবস্থায় বেহাল দশা হিসেবে দায় করেছেন কেউ কেউ। আসলে কি তাই?
নাকি প্রত্যেক জেলার জন্য সরকার নানান সুবিধা বেঁধে দিয়েছেন। নাকি শুধু বগুড়ায় বিচার ব্যবস্থা বেহাল দশা, সহজে জামিন পাননি কেউ! অথচ এতো বাজে পরিস্থিতির পরও জেল কারাগারের ভিতরে জমে উঠেছে জেল ক্যান্টিন ব্যবসা। সেটি সরজমিনে ভিতর থেকে দেখে এসেছিলেন টাইমস অব বাংলাদেশের এক সাংবাদিক?
সব জেলার থেকে বগুড়া জেলা কারাগারের গোপালগঞ্জের বেশি লােকবল ছিল। সেই জন্য হয়তো হওয়ায় জমে উঠেছে ভিতরের ক্যান্টিন ব্যবসা। যেখানে জেল পুলিশ দিয়ে ক্যান্টিন চালানো হয়। যাহা প্রতি মাসে শুধু লভ্যাংশ হতো প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। পরে তারা সেই টাকা ভাগবাটারাও করে নিতেন তারা।
বগুড়া জেল কারাগারে ছোট খাটো মামলায় জামিন পর্যন্ত নিতে হতো হাইকোর্ট থেকে। এছাড়া সেখানেও রয়েছে ভোগান্তি। কোন ব্যক্তি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও জজ কোর্টের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিতে ঘুরতে হয় ৩-৪ দিনের মতো। মোট কথা অহেতুক হয়রানি করা হতো তাদের।
অন্যদিকে নতুন কোন মামলায় কোন আসামী ভিতরে প্রবেশ থেকে তাকে নানানভাবে হয়রানিসহ যে কোন পেশা আর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নানান বয়সী আসামীদের বগুড়া জেলখানায় মানুষদের লগ্ন করে তল্লাশি করা হতো!
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক হিলি বর্ডারের একজন মামলার আসামী রবি (ছদ্মনাম) তিনি জানান, ’আমি বিএনপি করি বলে আমার নামে তিনটি মাদক মামলা দেয়া হয়েছিল। দুইটি গাইবান্ধা জেলা সদরে আর একটি বগুড়া জেলা শহরে। আমার মামলার বয়স ১৭ মাস চলমান। কোন জামিন দিচ্ছেন না তারা। জামিন চাইলে বলে আমাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে হবে। কিন্তু আমি তা করিনি। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছিলাম। আজ তার বিচার পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধার মামলা ৩ মাসে জামিন হলেও বগুড়ার মামলা ১৭ মাসের কোন সুরহা হচ্ছে না। প্রতিমাসে দুই জেলায় ঘুরতে ঘুরতে প্রায় অসুস্থ হয়ে গেছি। বাকি দুইটি মামলার জামিন হলেও বগুড়ার এই একটি মামলা আমাকে হতাশ করেছে। আমাকে কোর্টে পর্যন্ত তোলা হয় না। পুলিশ গাড়ী দিয়ে শুধুমাত্র কোর্ট কাচারী পর্যন্ত নেয়া হয়।
এরপর আবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বগুড়ার তুলনায় গাইবান্ধা জেলে দ্বিগুণ ভাল থাকি। বগুড়ায় আসলেই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ি।
গাইবান্ধায় ৪০০-৫০০ আসামী থাকলেও বগুড়া জেলা কারাগারে ছিল প্রায় ১৭০০-১৮০০ আসামী। এতাে আসামীর মধ্যে অসুস্থ হবারই কথা। সারাদেশের জেলখানায় ৭ দিন পর পর ১০ মিনিট ফোনে কথা বলতে দিলেও শুধুমাত্র বগুড়ায় ১৫ দিনেও ফোনে কথা বলাসহ আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা পর্যন্ত করতে দিতেন না কেউ।
এগুলো বলাটা আরেক অমানুষিক যন্ত্রণা। কিন্তু দেখুন গাইবান্ধায় তা নয়। তাহলে কি আমাদের বগুড়া বিএনপির শহর বলেই এতো অমানুষিক অত্যাচারে কেন রাখতে হবে। অথচ আমি নিজেও ছাত্র লীগের একজন একানিষ্ঠ কর্মী।
তিনি এছাড়াও বলেন, আপনারা অনেক জেল কারাগারে খরব নিয়ে দেখুন। আমরা বিএনপি করতাম বলে অমানুষিক নির্যাতনে রেখেছেন এই জেলা কারাগার। তারা বাইরে সাংবাদিকদের সাথে তারা সুন্দর সুলভ আচারণ করেন। তাদের কিন্তু ভিতরে আসতে দেন না। আর যদি কোন বাইরের কেউ জেল পরিদর্শন করতে আসেন সেইদিন সবকিছু গোছগাছ করে দেখানো হয়। তাই বলবো সাংবাদিকদের কৌশলে আসামী হয়ে ভিতরে আসা উচিত তাহলেই ভিতরের বাস্তব চিত্র চোখে পড়বে।’
রবি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের নানান মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছিল। তাতে করে জেলখানায় লোকবল বেড়েছে। চুলকানিসহ নানান রোগবালাই এ আমাদেরকে ভুগিয়েছেন। যারা এখন তাদের সাফাই গাচ্ছেন তারা আসলে তাদের চামচা বললেই ভুল হবে। তাদের অন্যকিছু বলাই উচিত।
সংসারে বাবা-মা নেই। একমাত্র বউ মেয়ে নিয়ে সংসার। এর আসলে শেষ কোথায়। আরও কতোদিন এই ভোগান্তি পোহাতে হবে উপরআয়ালা ছাড়া কেউ জানেন না। নিজের কাছে মাঝে মাঝে খুব কষ্ট লাগে! কেন জন্ম আমার বগুড়া জেলায় হলো!!
বগুড়া জেলে প্রায় ১৮শ এর মতো আসামী চোখে পড়লেও প্রতিদিন গড়ে জামিন পেতো ৩-৪ জনের মতো। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জেলা গাইবান্ধায় তার ভিন্ন চিত্র। যেখানে ৪০০-৫০০ আসামীর কম থাকা সত্ত্বেও গড়ে জামিন পায় ৪০-৫০ জনের মতো। এছাড়াও কোন অপরাধ ছাড়াই একাধিক গাছে গাছে ঝুলানো হাতকড়া বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হতো! এগুলির বিচার কে করবে সয়ং আল্লাহ ছাড়া?
তখন কই ছিল মানবিধিকার লঙ্ঘন। তখন বগুড়া জেলা কারাগারে যে পরিমান বেআইনিভাবে আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই আইন ব্রিটিশ শাসন আমলে ছিল কিনা সেটি আসলে দেখার বিষয়। তাতে করে সবার মনে প্রশ্ন আসে ‘আদো কি দেশের মানুষের স্বাধীনতা আছে। নাকি মিথ্যা মামলায় দেশের মানুষের স্বাধীনতা হনন করছেন কোন এক হায়নার দল। আসলে এর শেষ কােথায়?
অন্যদিকে এই বগুড়া জেলা শহরে নারী ও শিশুসহ যৌতুক মামলা দিকে জেলা জজের নড়র বেশি প্রখর। আসামী যে কেউ হলেও মিথ্যা ও হয়রানী মামলাসহ বাদী-বিবাদীর আইনী প্রক্রিয়া ভিন্ন রকম চোখে পড়েছে। বাদীর মিথ্যা মামলা হওয়া সত্ত্বেও বিবাদীর আর্থিক অচ্ছল হবার পরেও তাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করার ঘটনাও চোখে পড়েছে।
তাহলে কি বলাই চলে বগুড়া জেলাই শুধু ছিল পৃথিবীর ভিন্ন আরেকটা গ্রহ…???
