ঢাকারবিবার , ১৪ জুন ২০২০
  1. অপরাধ
  2. অর্থনৈতিক
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জাতীয়
  9. জেলা/উপজেলা
  10. জোকস
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. নির্বাচনের মাঠ
  15. নির্যাতন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমাদের চলচ্চিত্র ও নাটক; নগ্ন দেহ প্রদর্শনী আর অশ্রাব্য সংলাপে গন্তব্য কোথায়?

টাইমস অব বাংলাদেশ
জুন ১৪, ২০২০ ৬:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢালিউড বা ঢাকার চলচ্চিত্রে এক সময়ে কাটপিস ছবি প্রযোজকদের জন্য নিশ্চিত লাভের আশা চিন্তা করতেন। শুধু মাত্র অদূরদর্শী প্রযোজকদের কারনেই দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে ছবিগুলির মান যে কতটা নিম্নগামী হয়েছে তা কম বেশী আমাদের সবারই জানা আছে।

উল্লেখ্য যে, এক সময়ে কাটপিস ছবির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শ্রেণীর দর্শকদের চাহিদার রসায়ন একদম খাপে খাপে মিলে গিয়েছিল।কিছু সংখ্যক দর্শক তো সমাজে আছেই যাদের কাছে সহিংসতা, সূড়সূড়ি ও যৌনতার অশ্লীল দৃশ্যের উপাদান উপস্থিতিই তাদেরকে আকৃষ্ট করে!

মূলত সেই ধরনের দর্শকরাই তৎকালিন কাটপিস ছবির চাহিদানুযায়ী ভোক্তা হয়েছিল, যদিও অন্যান্য দর্শকদের তুলনায় তারা সংখ্যায় কম ছিল। তাদের কাম্যতা পুরণ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকায় মধ্যবিত্ত রুচিশীল শিক্ষিত শ্রেণীর দর্শকরা সিনেমা দেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারপরেও চলচ্চিত্র প্রযোজকদের ব্যবসার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায় নি, কারন সমাজে ঐ শ্রেণীর দর্শকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয় এবং সেই সমস্ত ভোক্তাগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প বাজেটের,মানহীন, সহিংসতা ও যৌনতা নির্ভর চলচ্চিত্র তৈরী হতে থাকলো সে সব অসাধু প্রযোজকদের দ্বারা।

এই সুড়সুড়ি মার্কা রগরগে যৌন আবেদনের অশ্লীল দৃশ্যের চিত্রায়িত চলচ্চিত্রই শেষমেষ রুপালি পর্দার শিল্পকে আজ ধ্বংসের খাদে এনে দাঁড় করিয়েছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে এখন আমাদের সমাজের সাধারন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষও সিনেমা দেখা থেকে দুরে সরে গেছে এবং নাক সিটকায় অথচ আমাদের দেশে মধ্যবিত্তরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই ব্যর্থতার জন্য কি আমরা যারা চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে কাজ করি সবাই কম বেশী দায়ী নই? আমরা সবাই রুগ্ন চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য কত কথাই বলি, আসলে আমরা এখনো নায়ককে দিয়ে বাস্তব বিবর্জিত “চায়ের কাপে হিশু করা’র” মতো দৃশ্য ধারণ করিয়ে সস্তা বিনোদনের সিনেমা বানাই শুধু মাত্র এক শ্রেণীর দর্শকদের জন্য।

এই সস্থার কবলে আমাদের ছবিগুলো নিম্ন মানের হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতা ও হারিয়েছে। অথচ আমাদের সিনেমার সোনালী ইতিহাস রয়েছে, যা এখন আর কারো চোখেই পড়ে না। ইদানীং লক্ষ্য করছি নাটকেও একই পরিবেশ তৈরী হয়ে গেছে। নাটকের বড় তারকাদের দিয়ে তৈরী হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল সংলাপসহ স্বল্প পোশাকের চিত্রায়নে বিভিন্ন ধরনের সুড়সুড়ি মার্কা দৃশ্যায়ন এবং এগুলো দিয়ে এখানেও একধরনের নীচুশ্রেণীর দর্শকদের আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতা চলছে। যা আমাদের আবহমান পারিবারিক সংস্কৃতিরও পরিপন্থী। তবে বেশী অশ্লীলতার আবেশে তৈরী নাটক গুলো চলছে অনলাইন স্ট্রীমিং এ।

আর অশ্লীল সংলাপে তৈরী নাটকগুলো বিপ দিয়ে প্রচার করছে টেলিভিশনে সস্থা জনপ্রিয়তার জন্য। চলচ্চিত্রের চেয়েও নাটক এবং অনলাইন স্ট্রীমিং এর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনেক বেশী কেননা এই মাধ্যমের বিনোদন আমরা পরিবারসহ উপভোগ করি ও আমরা এই নাটকগুলোকে ড্রয়িং রুম মিডিয়া বলি। এই ভাবে চলতে থাকলে নিশ্চিত এই নাটককগুলোও ভবিষ্যতে পরিবার নিয়ে দেখার অবস্থা থাকবে না। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নাটকের ভাষা কিংবা ট্রেন্ড প্রকৃতির মতো হয়তো রূপ বদলাবে, এটাই স্বাভাবিক। সময়ের সাথে নতুন কিছু আসবে, আবার কিছু চলেও যাবে। বিবর্তনের মাঝে সমাজে সব সময় কিছু যোগ হবে, আবার বিয়োগও হবে।

অধুনা প্রচারিত একটি নাটকে আমি লক্ষ্য করেছি সংলাপে স্বামীকে বহুগামী বলে স্বীকার করে অশ্লীল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা কোন ভাবেই কি আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সমাজের পারিবারিক মুল্যবোধের সঙ্গে মানন সই কিনা? এই ধরনের রুচিহীন সংলাপের-গল্পের নাটক প্রচারে আমাদের অনৈতিকতা, এই প্রজম্মকে কি শিখাবে? এই ধরণের অবক্ষয় অবশ্যই প্রজন্মব্যাপী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। আমরা আমাদের উর্বর সংস্কৃতিকে যদি নিজ হাতে ধব্বংসের দিকে নিজেরাই এগিয়ে নিয়ে যাই এর জন্য দায়ী কি আমরা নই? সচেতন বুদ্ধিজীবিরা হয়তো একদিন বলতে বাধ্য হবে সমাজের জন্য ক্ষতিকর নাটকগুলো সেন্সর করা উচিত, আমি বলতে চাই আমাদের কি নিজেদের সুস্থ বিবেকবোধ থাকা উচিত নয়? সেখানে হয়তো পুং লিঙ্গ বলেন কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই সেখানে যদি স্ত্রী লিঙ্গকে হেয় প্রতিপন্ন করা হতো! তাহলে হয়েতো এতোদিন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলিতে হাউকাউ শুরু হয়ে যেত!

আমরা কি ভালো মন্দ বিচার করতে আজও শিখিনি? এভাবে চলতে থাকলে একদিন নাটকও চলচ্চিত্রের মত রুগ্ন অবস্থা ধারণ করবে। চলচ্চিত্র শেষ হতে আর কিছু বাকী আছে বলে আমি মনে করি না এবার নাটকও চলচ্চিত্রের মত রাস্তা হারাবে যদি না আমরা সচেতন না হই। উচিত হবে সরকার কর্তৃক নাটকসহ যে কোন ভিজুয়্যাল কিছু দর্শকদের প্রদর্শনের আগেই সে গুলোকে কঠোর সেন্সরের আওতায় নিয়ে আসা। সিদ্ধান্ত নিতে হবে শুধু অশ্লীলভাবে শরীর প্রদর্শন ও রুচিহীন সংলাপের চিত্রায়ন এবং প্রদর্শন অবশ্যই বাদ দিতে হবে।

ফিরে আসুক সেই সোনালীযুগের আশি নব্বই দশকের নন্দিত নাটকগুলোর মত আধুনিক রুচিশীল সংস্করণে। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এই শিল্প যেন নষ্টদের দখলে না যায়..

আবীর চৌধুরী-
চলচ্চিত্র অভিনেতা
গুলশান-১, ঢাকা ১২১২
বাংলাদেশ ।

টাইমস বাংলাদেশ/ আকাশ নিবির

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।