আকাশ নিবির : করোনায় যখন মানুষের জীবন একদম বিপর্যয়ে, ঠিক তখনই ছিনকারীরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া! করোনায় ছিনতাই বুথ নাকি এখন মালিবাগের আবুল হোটেল টু রেললাইন হয়ে কাঁচা বাজার এবং মগবাজার রেলগেট থেকে এফডিসি ও হাতিরঝিল চায়না চত্বর পর্যন্ত। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন এক ব্যবসায়ী।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক তিনি জানান, ’করোনায় দীর্ঘদিন দোকানপাট লক-ডাউনে বন্ধ থাকলেও আর্থিকভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্থের সম্মূখিন হতে হয়। পরবর্তিতে দেশের সরকার প্রধান সীমত আকারে দোকান পাট খুলে দিলে স্বাভাবিক জীবন স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেও বর্তমানে তাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়’।
তার ভাষ্যমতে, আমাকে দোকান খোলার আগে প্রতিনিয়ত কাঁচা বাজারের উদ্দ্যেশে মালিবাগে রওনা দেওয়া মূহুর্তে একাধিকবার আবুল হোটেলের পিছন থেকে মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত তিনভাগে ছিনতায়ের সম্মূখিন হতে হয়। তাদের কারও কাছে আবার বাইকও থাকে ছিনতাই করেই পুলিশ আসার আগেই তারা তারাতারি রাস্তা থেকে কেটে পড়েন। তবে এই ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে সেখানে! তবে বিষয়গুলি হাতিরঝিল থানায় একাধিকবার জানালেও তার কোন সুরহা মেলেনি বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে আবুল হোটেলের সামনে থেকে মৌচাক হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের তৃতীয় তলার ফ্লাইওভারটি বাইকারদের জন্য বেশি বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে কিছুদিন আগে এক পাঠাও ড্রাইভারকে গলায় ছুরি বসিয়ে বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। পরে বাইক চালককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। যদিও আজও পর্যন্ত সেই খুনির হদিস পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে কথা বলতে গেলে হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশীদ জানান, ‘ছিনতাই ঠেকাতে ঈদ সামনে রেখে পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই এলাকাগুলিতে অভিযােগ পাওয়া গেলেও আমরা তাৎক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তায় সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে ঢাকা মহানগরের ৪৪৪টি স্থানে ছিনতাইয়ের একটি প্রতিবাদ দেশের বড় গণ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়। সেখানে জানানো হয় ছিনতাই হয়ে থাকে প্রায় আড়াই শ স্থানে। অনেকস্থানে ছিনতায়ের ঘটনা কমলেও কমেনি মালিবাগ বস্তির পাশে থাকা এই স্থানগুলি!
যেখানে ৪ থেকে ৫ টি ভাগে ছিনতাইয়ের ঘটনা চোখে পড়ে। এর কয়েক মাস আগেও সেখানে একজন গণমাধ্যম কর্মীকে বিদেশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল খােয়াতে হয়। তবে সেটি নিয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা হলেও সেটিও ধোঁয়াশায় জালে হারিয়ে যায়!
এসব স্থানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও বাড়তি হয়রানির আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী থানামুখী হন না। যাঁরা মামলা করেছেন, তাঁদের সবার অভিজ্ঞতাও ভালো নয়। অনেক ছিনতাইয়ের ঘটনাকে চুরি, দস্যুতা, প্রতারণা দেখিয়েও মামলা নিচ্ছে পুলিশ। পুলিশের এমনটি করার কারণ কী?
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এফ এম রেজাউল করিম বলেন, চুরি, দস্যুতা, প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় আসামি যে সুবিধা পাবে, ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা মামলায় তা পাবে না।
কারণ, ছিনতাইয়ের মামলা হয় দ্রুত বিচার আইনে। এ আইনের মামলায় আসামি জামিন পাবে না। পুলিশকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রতিবেদন দেওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে। চুরি, দস্যুতা, প্রতারণা তথা দণ্ডবিধির মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এসব বাধ্যবাধকতা নেই। তাই তারা জেল থেকে বের হয়ে আবার এই জঘণ্য কাজে নেমে পরছে!
এর বহু আগেও রাত ১১টার দিকে বনানীর ১৫ নম্বর সড়কের ১৮ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মা ও মেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমেই বাড়ির ফটকে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। কয়েকজন ছিনতাইকারী অস্ত্রের মুখে তাঁদের ব্যাগসহ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। মেয়ের গয়না খুলতে না পেরে ছিনতাইকারীরা তাঁকেই অস্ত্রের মুখে গাড়িতে তুলে নেয়।
কিন্তু মোড় ঘোরার সময় একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি। তিন ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। লোকজন একজনকে ধরে পিটুনি দেয়। পরে হাসপাতালে মাসুদ নামের ওই ছিনতাইকারীর মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, যেখানে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রিয় দেশবাসীর জন্য জীবন মরণ বাজি রেখে দেশের এই ক্রান্তিকাল পার করছেন সেখানে দেশের মায়া ত্যাগ করে এই দস্যু বাহিনী খুন আর ছিনতাইয়ের ঘটনা জড়িয়ে হাজারও মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলায় মেতে উঠছেন! আসলে কি এসব দেখার কেউ নেই!! নাকি শেষ পর্যন্ত দেখবে না কেউ!!!
