গতকাল টাইমস বাংলাদেশে অনামিকার রয় চৌধুরী, পরিচালক রফিক সিকদারের নামে একটি অভিযোগ তুললে তাৎক্ষণিক ওই মেয়েটির ইনবক্সে তিনি সাইবার মামলা ভয় ভীতি দেখান! এতে মেয়েটি বিরক্তবোধ করলে পরিচালক নিজে থেকেই তাকে ব্লক করে দেন। পরে মেয়েটি এই বিষয়টি তার বড় ভাই ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে বিচার স্বরূপ জ্ঞাপন করেন। তাহলে সবার সাথে এই পরিচালক বার বাচ কেন এরকম উদ্ভট আচারণ করছেন? তা আসলে প্রশ্নই রয়ে যায়…
এছাড়াও সোস্যাল মিডিয়াতে এই পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করতে দেখা যায় অনেককেই।
অনেকের ভাষ্যমতে, প্রতিনিয়ত রাতে সোস্যাল মিডিয়ায় ইনবক্সে আর ভিডিও কলে নানা রকম কু-প্রস্তাবের অভিযোগও পাওয়া যায় এই পরিচালকের নামে। তবে তার নামে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে অভিযোগ উঠলেও নানা কারণে সে পার পেয়ে যায়। তাহলে কি এই পরিচালকের কাছে সকল পরিচালকরা হেয় পরিপূর্ণ হবেন। এ ব্যাপারে একাধিক বার পরিচালক রফিক সিকদারের মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সেখানে সাবরিনা মেহেক তার নিজের ওয়ালে একটি অভিযোগে পোস্ট করে জানান, ‘এ ধরনের মানুষের জন্য পুরো ইন্ডাস্ট্রিজ বদনাম হয়। এদের এসব কাজের জন্য সবাই ধরেই নেয় যে বাংলাদেশের নির্মাতা মানেই খারাপ। যদিও আমি পরিচিত প্রায় সমস্ত চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্রকৃত ভদ্রলোক এবং পেশাদার! এবং সে কারণেই তারা সবাই আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন। মানুষ কেমন তাকে তার নাম ও কাজেই চিনবে। এরকম নিজেকে জাহির করতে হয়না। তার উপর উনি বড় বড় কথা আর রাজ দরবার চালাচ্ছে!
এছাড়াও এই মডেল অভিনেত্রী নিজের কিছু অভিব্যাক্ত প্রকাশ করে বাংলাদের তিনজন (সাঈফ চন্দন, খিজির হায়াৎ, মাহমুদ বাপ্পা) পরিচালককে ট্যাগ করে এই বিষয়টির সুষ্ঠ্য বিচার দাবি করেন। সেখানে কমেন্ট প্রতিবাদী করতে দেখা যায় মডেল অভিনেত্রী জান্নাতুল প্রিয়াকে।
এ প্রসঙ্গে পরিচালক অপূর্ব-রানা বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উঠলেও তাকে আমার সমিতির পক্ষথেকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও কেন তিনি বার বার এরকম সবার সাথে অসৎ আচারণ করছেন? তার কারণ কেন সকল পরিচালকের মান ক্ষুন্ন হবে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে এই সপ্তাহে পরিচালক সমিতির ক্যাবিনেট মিটিং এ তাকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। তার ভাষ্যমত, যদি কেউ দোষী হয় তবে তার অবশ্যই বিচার হবে।
সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুচরিতা সাথে পাবনায় ‘বসন্ত বিকেল’ ছবির শুটিংস্থলে পরিচালক রফিক সিকদার তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। সেটির ঠিক বিচার না হওয়াতেই বার বার এরকম করার সুযোগেই তিনি এ রকম অসৎ আচরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠে। এর আগেও এই পরিচালক কলকাতার নায়িকা প্রিয়াংকা সরকার এ ব্যাপারে এবং কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে দেশিয় চলচ্চিত্রের পরিচালকদের হেয় করান।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক চলচ্চিত্র পরিচালক জানান, ‘প্রতিনিয়ত ব্যাপারগুলি খুবই নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। তিনি একজন তরুণ নির্মাতা। সবে দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। তবে দুটি ছবি ব্যবসায়িকভাবে প্রযোজককে আর্থিক সম্মূখিনে ফেলেছেন। তবে তিনি যদি নিজেই সফল পরিচালক না হন কিভাবে তিনি ইনবক্সে একের পর এক নতুনদের নায়িকা বানানোর প্রস্তাব দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্র হলো মিডিয়ার সর্বোচ্চ জায়গা। সেখানে সবাই নায়িকা হবার স্বপ্ন দেখতেই চাইবে। কিন্তু সেটি সে পুঁজি করে রাতে প্রায় মেয়েদের ইনবক্সে উৎতক্ত ছাড়াও ভিডিও করে নানা ধরণের কু-প্রস্তাবের অভিযোগ পাওয়া যায় এই পরিচালকের নামে। যা চলচ্চিত্রের সকল পরিচালকদের জন্য ভিষণ লজ্জার। তবে এবার পরিচালক সমিতির পক্ষথেকে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা যায়।’
উল্লেখ্য, কপিরাইট বুঝিয়ে প্রযোজকদের প্রথমের ২০-৩০ লক্ষ টাকার সিনেমা বানানোর ছবি বানানো প্রস্তাব দিয়ে দিন দিন কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এই পরিচালকের নামে। মাঝ পথে সাইমন সাদিক আর অপু বিশ্বাসকে একটি সিনেমা বানানোর নামে এক প্রযোজকের প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মহরতে নষ্ট করলে এবং তার থেকে টাকা ফেরত চাইলে সেই প্রযোজকে নানান তালবাহানা আর আইনের ভয় দেখিয়ে থেমে রাখতে দেখা যায়! তবে রফিক সিকদারের পরপর দুটি ছবি মুক্তি পেলেও তা মুখ থুবরে পরলেও তবে চিত্রনায়ক নিরব অভিনীত “হৃদয় জুড়ে” ছবিটি বেশ আলোচনায় এসবের কারণে!
