যেখানে করোনা ক্রান্তিকালে মানুষ অসহায় সেখানে যেন শাহারিয়ার নাজিম জয় যেন মজা করছেন। এটা আসলে বাস্তবে না হলে দেখানো হয়েছে চ্যানেল আইয়ের একটি ফেসবুক লাইভে। তার সাথে এই লাইভে যুক্ত ছিলেন চিত্রনায়িকা মুনমুন, পরিচালক মালেক আফসারি এবং বগুড়ার ভাইরাল আলম। এই অনুষ্ঠানে বিচারক এর আসনে মালেক আফসারিকে বসাতে চাইলে তিনি প্রথমেই বলে দেন, “আমি প্রফেশনাল পরিচালক পারিশ্রমিক ছাড়া কোন কাজ করি না।” পরবর্তীতে তা জোর করে চিত্রনায়িকা মুনমুনের উপর চাপানাে হয়।
যদিও প্রথমে তিনি কোন প্রশ্ন খুঁজে না পেলেও পরে ভিলেন হয়ে অভিনয় করতে বলেন। সেখানে তার অভিনয় দেখে নরমাল মার্ক দেন কারণ সেখানে মুনমুন বলেন, “তার আসলে নিজের ভাষাগত সমস্যা, অভিনয়ে চোখের আইবল নড়ে যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। আসলে সেটি কোন অভিনয় নয়।” কিন্তু মাঝপথে আবেগে কিছু প্রশংসা করতে আসলেও ভাইরাল আলম তাৎক্ষণিক দেশিয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার নাম্বার ওয়ান শাকিব খানের সাথে কণ্ঠের তুলনা করলেন! যেখানে বলেই ফেলেন “আপনারা যদি আমাকে নিয়ে আগে থেকে চেষ্টা করতেন তাহলে আমিও নাম্বার ওয়ানের মতো কথা বলতে পারতাম। ও কি জানে শাকিব খানের কণ্ঠের কি দাম। যার ৬০% প্লাস পয়েন্ট এই তার কণ্ঠ। এই ছেলে কি পাগল!”
এ প্রসঙ্গে শাকিব খানের এক ক্ষুদে ভক্ত বলেন, “এই ভাইরাল আলম কেমনে হিরো হয়! তার তো কথাই ঠিক নাই। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলাম ১ হাজার কোটি বছর। সে তার ভাষা ঠিক করতে পারে তার আমি সারা জীবন গোলামী করব। তবে তিনি বার বার নিজেকে কেন শাকিব বস্ এর সাথে তুলনা করেন। এই সাহস তাকে কে দিয়েছেন?”
বেশ কয়েকদিন যাবৎ নানা রকমের তালবাহানায় চলচ্চিত্রের প্রযােজক আর পরিবেশক সমিতির সদস্য হিসেবে নিজেকে কখনও প্রযোজক আবার কখন হিরো আবার কখনও কখনও চিত্রনায়ক ভাবা শুরু করেছেন? কিন্তু সেটি কেন? আবার তা নিয়ে চলচ্চিত্রের বিনোদন সাংবাদিকরা নিউজ করছেন! এ বিষয় নিয়ে মালেক আফসারি মুঠোফোনে টাইম বাংলাদেশকে ফোন করে বলেন, “এই আলম এগুলি কি শুরু করেছেন। আপনারা কেন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনিও কয়েকদিন যাবৎ দেখছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর আর সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে বিভিন্ন হেয় প্রতিপন্ন করছেন। এটা ঠিক না। আবার চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে আমার মুখের উপর তিনি নাম্বার ওয়ান শাকিব খানের টপাক করে তুলনা করে ফেললেন! বিষয়টা হাস্যকর। এগুলি কি কেউ দেখার নেই।”
https://youtu.be/wla4e3Ccsa8
এর আগেও চ্যানেল আইয়ের আই’র একটি লাইভে শাহারিয়ার নাজিম জয়ের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। সেই অনুষ্ঠানে জয় প্রতিবারের মতো মিশা সওদাগরকে একটি আজাইরে প্রশ্নের সম্মূখিন করে একেবারে নাস্থা নাবুদ করে ছেড়ে দেন।
সেখানে এমনটি প্রশ্ন ছিল যে, “আপনি কি হিরো আলম কে চিনেন? সে কি আপনাদের শিল্পী সমিতির সদস্য?? তার এমন খামাখা প্রশ্ন ঠিক মতো শুনতে না পেরে তিনি উত্তরে বলেন “আলম তো আমাদের আজীবন সদস্য।” যেখানে তিনি প্রযোজক সমিতির ক আলম নামে এক প্রযোজকের কথা ভেবে কথাটি উত্তর দেন। কিন্তু সেই আরও লাইভে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তিনি তাৎক্ষণিক উত্তরে জানান “না না সভাপতি উনি আমাদের সেই আলম নন। উনি হলেন মিউজিক ভিডিও করেন সেই আলম। সে আবার কিসের হিরো! আমাদের হিরো তো ফারুক সাহেব আমাদের হিরো তো আলমগীর সাহেব।”
এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়ার ভাইরাল আলম ওরফে হিরো আলম ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক জায়েদ খানকে তুলোধুনো করে ছাড়েন। যদিও বিষয়টি নেক্কারজনক। পরবর্তীতে একটি জাতীয় পত্রিকার অনলাইনের নিউজের সুবাধে তিনি প্রযোজক সমিতিতে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। যা মূলত হাস্যকর।
এরপর গতকাল ৬ জুন শনিবার দেশের বাইরে থেকে এই ভাইরাল ইস্যুর সাথে যোগ হন বিশ্বখ্যাত পাগলখ্যাত সেফু দা। তিনি ভাইরাল আলমের পক্ষ নিয়ে রীতিমত দেশিয় চলচ্চিত্রের অন্যতম অভিনেতা মিশা সওদাগরসহ চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে বিভিন্ন ভাষায় গালমন্দ করতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক অভিনেতা বলেন, “যেহেতু বার বার ভাইরালের মূল হোতা অভিনেতা ও উপাস্থক শাহিরয়ার নাজিম জয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে চলচ্চিত্রের অনেককে নাস্তা নাবুদ হওয়া সত্ত্বেও কেন তার অনুষ্ঠানে যেতে হবে তাদের। এতে কি চলচ্চিত্রের মানহানি হচ্ছে না। আমরা চলচ্চিত্রের সকল শিল্পীদের কি সম্মান হারাচ্ছি না! নাকি তিনি নিজেকে বিশ্ব দরবারে নিজেকে হিরো আলমের মতো ভাইরাল করতে জাহির করছেন? আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে কেন তাকে আইনের আওতায় তিনি আনতে পারছেন না। এতে করে দেশের সকল মানুষের খারাপ ধারনা হবে! চলচ্চিত্রের সব মানুষ মনে হয় এ রকম! যেখানে আমরা সামান্য ভাইরালের কাছে জিম্মি হয়ে গেলাম! ছিঃ…
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জানামতে কালেরকণ্ঠের এক সাংবাদিকের কাছে রীতিমতো আপসোস করতে শােনা যায়। তবে এই বিষয় নিয়ে সভাপতি মিশা সওদাগর এবং সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে একাধিক ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
#https://www.youtube.com/channel/UCeRk0QubibBeQK48OjcPHzw?sub_confirmation=1
— Times of Bangladesh (@TimesBanglaNews) June 8, 2020
