আকাশ নিবির : বাংলাদেশের জনপ্রিয় সুপারস্টার তারকা সালমান শাহ। যার আকাশ চুম্বী জনপ্রিয়তা সেটি বাংলা চলচ্চিত্রের সবার কাছে। যার অসংখ্য চলচ্চিত্র দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় এই অমর নায়কের নাম কেউ শুনলেও সবার হৃদয়ে যেন হাহাকার উঠে।
সেখানে বাপ্পী’সাহার কিছু ভক্তরা এই অমর নায়কের সাথে তুলনা করলেন এই প্রযন্মের নায়কের। তবে চলচ্চিত্র বিষয়ক কিছু গ্রুপে লিখাটি পোস্ট করলে বাপ্পীৎসাহার ভক্তদের ধুয়ে মুছে দিতেও দেখা যায়! একজন চলচ্চিত্র প্রেমী লিখেন, পোস্ট টা রিপোর্ট মারতে বাধ্য হলাম।, শালা নিশ্চয় গাজা খাইছে।, ভাই কোথায় আকাশ আর কোথায় পাতাল,,, হাসালেন ভাই, শালা নিশ্চয় গাজা খাইছে, বাংলাদেশের সব নায়ক রাই বলিউড কে নকল করে। সেটা সিনেমা , গান, কস্টিউম , স্টাইল যেটাই হোক। অন্তত তারা তো আর নিজেদের কথিত নায়কের মতো শাহরুখ / সালমান খান ভাবেনি। সালমান শাহ মাত্র ৩ বছরে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আর কোনো নায়ক এতো কম সময়ে এতো জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি।
নিম্নে পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল :-
সুপারস্টার সালমান শাহ্’ এবং সুপারস্টার বাপ্পী চৌধুরীর মধ্যে যত মিলঃ-
১। এরা দুজনই চোধুরী বংশের উত্তরাধিকারী, একজন চৌধুরী শাহরিয়ার ইমন (সালমানের প্রকৃত নাম) , আরেকজন বাপ্পী সাহা চৌধুরী।
২। সালমান শাহ্ নব্বই দশকের লাভার বয় হিসেবে অধিক পরিচিত, আর বাপ্পী চৌধুরী এ প্রজন্মের লাভার বয়। দুজনই চলচ্চিত্রে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন বলে প্রচলিত আছে। সালমানের আগমনের পরেই টিনেজার লাভারদের মুভি বেড়ে গিয়েছিল। অপরদিকে বাপ্পী আসার পর বেড়েছে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের নির্মাণ ।
৩। সালমান এবং বাপ্পী দুজনই ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তাদের নিজ নিজ সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। সালমান এসেছিলেন আনন্দমেলা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে যা কিনা ঐ সময়ের সবচেয়ে দাপুটে প্রোডাকশন হাউজ ছিল, আর জাজ মাল্টিমিডিয়া এ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
৪। সালমান এবং বাপ্পী উভয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম নায়িকার নামের আদ্যক্ষর ‘ম’। সালমানের প্রথম নায়িকা ছিল মৌসুমী অপরদিকে বাপ্পীর প্রথম ছবির নায়িকা মাহিয়া মাহি।
৬। সালমান শাহ এবং বাপ্পী চৌধুরী উভয়েই তাদের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন নবাগত নায়িকাদের বিপরীতে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ যেমন সালমান-মৌসুমীর প্রথম ছবি, তেমনি ‘ভালবাসার রঙ’ ও ছিল বাপ্পী-মাহির প্রথম ছবি। একই ছবিতে একজোড়া করে তারকার উত্থান ঘটেছে সালমান এবং বাপ্পী দুজনের বেলাতেই।
৬। ক্যারিয়ারের প্রথম ছবিতে সালমান শাহ্ এবং বাপ্পী চৌধুরী উভয়েই ছবির নায়িকাদের তুলনায় কম আলোচিত ছিলেন। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর আলোচনার প্রায় সবটুকু ছিল মৌসুমীকে ঘিরে, একইভাবে বাপ্পীর প্রথম ছবি ‘ভালবাসার রঙ’ মুক্তির পরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাহিই ছিলেন।
৭। সালমান এবং বাপ্পী উভয়েই তাদের অভিষেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে বিবাদে জড়িয়েছেন। সালমান আনন্দমেলা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে বিবাদে জড়িয়ে নিষিদ্ধও হয়েছিলেন। অনেকে মনে করে থাকেন আনন্দমেলার সাথে বিবাদে জড়িয়েই সালমান তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ভুল করেছিলেন, অপরদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়ার বাইরে এসে বাপ্পীও যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেটাও দৃশ্যমান।
৮। সালমান এবং বাপ্পী চৌধুরী উভয়ের জীবনের প্রথম জুটির মধ্যে ভাঙ্গন ধরে ছবির সাফল্যের কৃতিত্বের প্রশ্নে কিংবা ব্যক্তিগত কারণে। সালমান-মৌসুমী এবং বাপ্পী-মাহি জুটির ভাঙ্গনের কথাই বলছি।
৯। সালমান শাহ্ এবং বাপ্পী চৌধুরী উভয়ের বিরুদ্ধেই নকলের অভিযোগ আছে। সালমান শাহ নকল করতেন বলিউড তারকাদের নাম, সিনেমার নাম, গান এমনকি কস্টিউম পর্যন্ত অপরদিকে বাপ্পী চৌধুরী ঢালিউডের কিং খানকে নকল করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ আছে।
১০। দুজনের কেউই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার বা উল্লেখযোগ্য কোন পুরষ্কার অর্জন করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, অমর নায়ক তুমুল জনপ্রিয়তার সাথে অনেক ছবি হিট দিলেও জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে বাপ্পী’সাহাকে বের করে দেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশিয় চলচ্চিত্রে কোন ছবি হিট দেতে তাকে দেখা যায়নি বলে অনেকেই জানায়! তবে তার ভক্তদের পোস্ট দেয়াতে তার মুক্তির প্রতিক্ষায় ”শুশুরবাড়ী জিন্দাবাদ-২” ছবিটি ক্ষতির সম্মূখিন হতে পারে। তবে সে যদি মনে করেন এগুলি দিয়ে আলোচনায় আসতে চায়। তাহলে সে জীবনে আর একটা ভুল করবে।
