ঢাকাশনিবার , ১৬ মে ২০২০
  1. অপরাধ
  2. অর্থনৈতিক
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জাতীয়
  9. জেলা/উপজেলা
  10. জোকস
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. নির্বাচনের মাঠ
  15. নির্যাতন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংশয়-ভয়; জীবন ও অর্থনীতি

টাইমস অব বাংলাদেশ
মে ১৬, ২০২০ ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

করোনার এবারের মহামারীর প্রকোপ হয়তো একসময় চলে যাবে, এমনটিই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু তাঁরা আরো বলছেন, করোনা জীবানু থেকে যাবে পৃথিবীতে ও এটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হবে না কোনোদিনই। সেজন্য মানুষকে সচেতনভাবে কিছু সাবধানতার ও নিয়মের নিগড়ের মধ্যে জীবন যাপন করে যেতে হবে, না হয় এই বিপদ ঘুরে ফিরে আসবে।

এই সংশয়, এই ভয় নিয়েই মানুষকে বাঁচতে শিখতে হবে। কি অদ্ভূত, এমন ভীতির মধ্যে বসবাস ! ভীতি মানুষের প্রাণশক্তি কেড়ে নেয়। স্বস্তির বোধ অনিরাপদ হয়ে গেলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন দু:সহ হয়ে যেতে বাধ্য। বাংলাদেশের মানুষের ক্ষেত্রে এই সংশয় বিদ্ধ জীবন যাপনের বিস্তৃতি আরো ব্যাপকতর ও সংকটাপন্ন হয়ে উঠা অস্বাভাবিক নয়। আমাদের জন্য কতই না রুপ নিয়ে হাজির হয়েছে করোনা মহামারীর এই চলমান সময়।

সচেতনতার বহুল উচ্চারিত শব্দগুচ্ছ ও বাক্য প্রবাহের মধ্যেই আমরা কি করছি ? বহুমুখী ঘোষণা, নির্দেশনা, আধা-ঘোষণা, স্থগিত ঘোষণা, ব্যক্তিগত জ্বালা-যন্ত্রনা, কৌশল অনবরত চলছেই। মানুষ ভিড় এড়িয়ে চলছে না। পথে-ঘাটে গাদাগাদি, ফেরিঘাটগুলোতে মানুষের ঢল, কল-কারখানা, দোকান-পাট, হাট-বাজারে মানুষ আর মানুষ।এদেশের পথে পথে মলিন মানুষের সরব স্রোত। কিন্তু কেন ? এটা কি শুধুই মানুষের অসচেতনতা কিংবা অশিক্ষা ? এদেশে মানুষ কেন শুনছে না ‘ঘরে থাকো’ বা ‘স্টে হোম’ এর বিশ্বনন্দিত বিশ্বায়নের অমৃত বচন ?

কারণ খুঁজতে গেলে কিছু বিষয় কি সামনে চলে আসে না ! এখানে সৌখিন ঋণ খেলাপির সংখ্যা অগুনতি ! এখানে শিল্প-মালিক নানা অজুহাতে বছর বছর প্রণোদনা পায়। এরা ট্যাক্স রেয়াত ‘আজীবন সম্মাননা’র মতো ভোগ করতেই থাকে। আর এসব শিল্পগুলোর শ্রমিকেরা বছরের পর বছর মানবেতর জীবন যাপন করতে করতে এক সময় নিয়তিকে দোষারোপ করে চলে যায় জীবনের ওপারে। এখানে ৮০ বছরের বৃদ্ধ রিক্সা চালায়।

এখানে নগর-মহানগর, শহর কেন্দ্রিক জীবিকার কোটি কোটি পরিযায়ী মানুষ নির্লিপ্তভাবে বেঁচে থাকে। বিশেষ করে বৃহত্তর ঢাকা জীবিকার প্রধান স্থান হয়ে গেছে। মানুষ এখানে অজস্র আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক, স্বীকৃত-অস্বীকৃত পেশায় কাজ করছে। কৃষিখাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটা সারাবছরের জন্য শ্রমঘন ও জীবন চালিয়ে নেয়ার উপযোগী খাত হিসাবে গড়ে তোলা যায়নি। এইসব উদ্বৃত্ত শ্রমের গ্রামের মানুষগুলোই শহর মুখী হয়ে গেছে।

এই গরীব-মলিন মানুষেরাই রাখছে অর্থনীতির চাকাকে সচল, ধনীরা নয়। তাই এদেরকে ‘ঘরে থাকো’র মধুর অমীয় বাণীতে আসলে ঘরে রাখা যাচ্ছে না এবং নেপথ্যের কুশীলবরাও চাচ্ছে না এরা রোগ থেকে বাঁচতে বা কোনো যৌক্তিক কারনেও ঘরে থাকুক। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে ।

কিন্তু এভাবে কতদিন ? এভাবে কি এই ভাইরাস-রোগ-শোক থেকে কারোর মুক্তি মিলবে অথবা ধনীর কথিত অর্থনীতির চাকা কিংবা সমতাহীন জিডিপি’র উর্ধ্বমুখীতা বজায় থাকবে ? যদিও গুটিকতক মানুষের দ্বারা কুক্ষিগত সম্পদ ও অর্থের মানদন্ডে বিচার্য এই জিডিপি বেশীরভাগ এই গরীব কুঁকড়ে বাঁচা মানুষ গুলোর কোনোদিনই কোনোভাবে কাজে আসেনি-আসবেও না।

তবে এখন ও ভবিষ্যতে করোনায় ভয়, জীবনের ভয়, জীবিকার ভয়, অর্থনীতি অচল হয়ে যাওয়ার সংশয়ের মধ্যে ধনী-গরীব কারোরই শেষ রক্ষা হবে কি ? হয়তো করোনার এই সংশয়-ভয় সমাজে একটা ভবিষ্যত সমতার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও তৈরী করছে ! তাই সকলে মিলে শুভ সময়ের প্রত্যাশায় থাকি ।

– মোতাহার হোসেন চৌধুরী, কলামিস্ট।-ঢাকা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।