প্রচ্ছদজাতীয়

সাবরিনা বলছেন ষড়যন্ত্র, পুলিশ দেখছে টাকা ভাগ

স্ত্রীর চিকিৎসক পরিচয় ও সামাজিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। এরই সবশেষ উদাহরণ হলো জেকেজির কর্মকাণ্ড। রিমান্ডের প্রথম দিন সোমবার সাবরিনা আরিফ চৌধুরী পুলিশকে বলেছেন, তিনি স্বামীর ষড়যন্ত্রের শিকার।

এর আগে সোমবার সকালে তেজগাঁও থানার পুলিশ সাবরিনা শারমিন হুসেইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক হাসানাত খন্দকার জেকেজির জালজালিয়াতির তদন্ত করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সাবরিনা আরিফ চৌধুরী করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় জালজালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। পুলিশ মনে করে তাঁর অগোচরে কিছুই ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্বও এড়াতে পারেন না।

জেকেজির জালিয়াতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এমন একাধিক কর্মকর্তা জানান, মহামারির শুরুর দিকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৪৪টি বুথ স্থাপন করে তারা নমুনা সংগ্রহ করছিল। নমুনা সংগ্রহের পর সরকার–নির্ধারিত গবেষণাগারে পাঠানোর পাশাপাশি ভুয়া রিপোর্টও দিত।

পুলিশ বলছে, যারা জেকেজিতে পরীক্ষা করিয়েছে, সেই সনদগুলো জব্দ করেছে পুলিশ। ওই সনদগুলোর গায়ে সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভ অ্যান্ড হেলথ সার্ভিসেস (আইডিইএসএইচআই) এর সিল ছিল। তারা প্রতিষ্ঠানটিতে সনদগুলো পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন, ওগুলো ভুয়া ছিল। সাধারণত যাদের উপসর্গ নেই বা কম তাদের পরীক্ষা না করেই নেগেটিভ প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। এই করে জেকেজি দিনে প্রায় সাত লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করে। পরে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। কর্মীদের মধ্যে যাঁরা ৩০ হাজার টাকা বেতন পেতেন, তাঁরা বলতে শুরু করেন, লাখ লাখ টাকা রোজগার করে, কেন তাঁদের কম বেতন দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, টাকার ভাগ নিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী ও সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর মধ্যেও ঝামেলা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সাবরিনাকে পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক আরিফুল দিয়েছিলেন। কিন্তু চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। সাবরিনা তখন একটি উকিল নোটিশও পাঠান।

সাবরিনা একাধিকবার বলেছেন, তিনি জেকেজিতে স্বেচ্ছাশ্রম দিতেন। জালিয়াতির খবর তিনি জানতেন না। জানার পরই জুনের প্রথম সপ্তাহে তিনি সরে আসেন। তবে পুলিশ এ কথা মানতে নারাজ। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেন, জেকেজি নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব পায় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। এর অল্প কিছুদিন পরই তারা অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে টাকার বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করতে থাকে। এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) লিখিতভাবে জেকেজিকে সতর্কও করে। তারপরও তারা এই কাজ চালিয়ে যায়।

আগেই যে জেকেজিকে সতর্ক করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে পুলিশের দেওয়া তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, টাকার বিনিময়ে জেকেজি নমুনা সংগ্রহ করছে, এই খবর পেয়ে তিনি মৌখিকভাবে আরিফুল হক চৌধুরীকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, জেকেজি অধিদপ্তর থেকে যে সহযোগিতা পাচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি (আরিফ) সর্বোচ্চ অফিসের রেফারেন্স দিয়ে তাঁকে টেলিফোনে হুমকি দেন।  প্রথম আলো

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close