প্রচ্ছদআন্তর্জাতিক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি করেছে করোনা: গুতেরেস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর করোনাভাইরাস মহামারি-ই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এসময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেছেন, করোনা বিশ্বজুড়ে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস।

‘এই রোগ বিশ্বে ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি করবে এবং এটি সম্ভবত অর্থনীতির ওপর এতটাই মারাত্মক প্রভাব ফেলবে সুদূর অতীতে যার তুলনা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।’

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর আমরা যেসব সঙ্কট মোকাবেলা করেছি তাদের মধ্যে করোনাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাস্তবতা হচ্ছে, এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৪৫ সালে বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে এর ১৯৩টি সদস্য দেশ রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই সঙ্কটের সুরাহা করা সম্ভব। তবে এই ব্যবস্থাটি তখনই নেয়া সম্ভব ‘যদি সবাই একত্রিত হই, আমরা যদি রাজনৈতিক খেলাগুলি ভুলে যাই এবং এটি উপলব্ধি করতে পারি যে, এর ফলে মানবজাতি ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

করোনায় বিশ্বের ৪০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ২০০টি দেশের সর্বমোট ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনার কারণে বেকারত্ব, ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল ব্যক্তিদের পতনের দিকে ইঙ্গিত করে গুতেরেস বলেন, ‘আমরা এই রোগের কারণে বিশ্বের উন্নয়ণশীল বিশ্বের দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য একটি বৈশ্বিক প্যাকেজ তৈরি করা থেকে এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছি।’

তার ভাষায়, ‘আমরা সঠিক দিক নির্দেশনার দিকে অনেক ধীরগতিতে এগুচ্ছি, কিন্থু আমরা যদি এই ভাইরাসটিকে পরাজিত করতে চাই, তাহলে আমাদের আরও দ্রুত কাজ করতে হবে।’

জাতিসংঘ গত সপ্তাহে বিশ্বের দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর সাহায্যে এগিয়ে আসার আবেদন জানানোর পর মঙ্গলবার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি নতুন তহবিল গঠন করেছে।

করোনাভাইরাস উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের দরিদ্র, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে আঘাত হানতে পারে বলেও সর্তক করে দিয়েছেন গুতেরেস। আর তার মতে, এমনটি হলে করোনায় প্রাণ হারাবে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ। সূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close