প্রচ্ছদজাতীয়

ভোট পেছাতে ইসিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠি

সরস্বতী পূজার কারণে সিটি করপোরেশন নির্বাচন পেছাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছেন দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন।

এদিকে শুক্রবার ১৩ মেয়র পদপ্রার্থীসহ প্রায় সাড়ে সাত শ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতীক পেয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন।

গত ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা এক চিঠিতে পূজার জন্য ভোট পেছাতে দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেন। এই পত্র আবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন পেছানোর জন্য ১০ জানুয়ারি পত্রযোগে নির্বাচন কমিশনকে সুপারিশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন।

আবদুল বাতেন চিঠির অনুলিপি ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছেন।

বাতেনের চিঠিতে বলা হয়েছে- ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখের ১৭.০০.০০০০.৩৪.৩৭.০০৯.১৯-৪৮৪ নং প্রজ্ঞাপনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ০১-২৫ নং ওয়ার্ড এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর ০১.৭৫ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আগামী ৩০/০১/২০২০ তারিখে সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত পূজা লগ্ন বা তিথির মধ্যে সম্পন্ন করতে হয় বিধায় পূজার তারিখ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’

এর আগে মিহির লাল সাহা গত ৯ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখেছেন, ‘আগামী ৩০/০১/২০২০ তারিখ বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০২০ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন ঢাকা শহরের সকল নাগরিক একযোগে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দিবেন। কিন্তু আগামী ৩০/০১/২০২০ তারিখ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা সমগ্র দেশে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়ে থাকে। পূজার দিন পূজামণ্ডপে লাখ লাখ ভক্ত ও দর্শনার্থী উপস্থিত হয়ে থাকেন। ৩০/০১/২০২০ তারিখ বৃহস্পতিবার একই দিনে নির্বাচন কেন্দ্রে এবং পূজা মণ্ডপে উপস্থিত হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাস্তব পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়বে। অনেকেই নির্বাচন এবং পূজা অনুষ্ঠানের দুইটিতেই উপস্থিত হতে পারবেন না।’

‘একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোট দেয়া যেমন তার গণতান্ত্রিক অধিকার, তেমনি নিজ নিজ ধর্ম পালন করাও তার ধর্মীয় অধিকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ নীতিকে ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে যখন এগিয়ে যাচ্ছে, সেসময় শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজার দিন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদানে সক্ষম হবো না।’

‘এখানে উল্লেখ্য যে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান লগ্ন বা তিথির মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয় এবং সে সময় পরিবর্তন করা যায় না। এক্ষেত্রে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করলে প্রত্যেকেরই দুইটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সমানভাবে সুযোগ সৃষ্টি হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তন করলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুবিধা হবে। এমতাবস্থায়, শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা উদযাপনসহ সকলের ভোট প্রদানের সুযোগ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’

এছাড়া সরস্বতি পূজার কারণে নির্বাচন পেছানোর জন্য দু’দফা আবেদন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

তাছাড়া নির্বাচন পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ। একই কারণে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ।

সূত্র জানায়, নির্বাচন পেছানোর বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তবে নির্বাচন কমিশন মো. আলমগীর এ বিষয়ে বলেছেন, ভোটের তারিখ নির্ধারণের আগে পূজার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় এসেছে। কারণ কমিশন যখন কোনো সিডিউল ঘোষণা করে তখন কমিশনের সামনে সব তথ্য উপাত্ত দেয়া হয়। অনুমোদিত সরকারি ক্যালেন্ডারও দেয়া হয়। সেই ক্যালেন্ডারে আমরা দেখেছি যে ওখানে সরস্বতি পূজার তারিখ দেয়া আছে ২৯ জানুয়ারি। সেটা দেখেই ২৯ তারিখ নির্বাচন না দিয়ে ৩০ তারিখ দেয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। সে অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৬ মে। আর ভোটের আয়োজন করতে হয় মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০দিনের মধ্যে। এদিক থেকে ডিএনসিসিতে আগামী ১৩ মে এবং ডিএনসিসিতে ১৬ মে’র মধ্যেই নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও (ডাকসু)। শনিবার সন্ধ্যায় ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ জার্নাল

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close