প্রচ্ছদ

উত্তর কোরিয়ার‘হাইড্রোজেন বোমায়’ প্রবল ভূমিকম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বানানোর দাবি করে সেটা আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের পরই প্রবল ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে মারাত্মক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকার চোখ রাঙানি। আর্থিক নিষেধাজ্ঞা। ‘বন্ধু’ চীনের চাপ। এসব কিছু হেলায় উড়িয়ে ষষ্ঠ পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটাল উত্তর কোরিয়া। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।

‘ইউএসজিএস’ নামের ভূকম্পন বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়েছে। যার ফলে প্রচণ্ড ‘শক ওয়েভ’ তৈরি হয়েছে। ‘রিখটার স্কেলে’ ওই কম্পনের মাত্র ৬.৩ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দক্ষিণ কোরীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২.৩৬ নাগাদ একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের উৎস উত্তর কোরিয়ার হামগ্যং প্রদেশ। ওই ভূমিকম্পটি প্রাকৃতিক কারণে ঘটেনি। কোনও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও বিস্ফোরণই ওই ভূমিকম্পের জন্য দায়ী। ভূমিকম্পের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক। অনেকেই ‘বম্ব শেল্টারে’ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যে ‘হাইড্রোজেন বোমা’ বানানোর দাবি করেছেন কিম জং উন। তারপরই এমন ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ও ভূমিকম্পে তার কথা সত্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কোরীয় উপসাগরীয় অঞ্চল একটি ‘টাইম বম্ব’ বলেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, যেকোনও মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। আর তা হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা একপ্রকার বেজে উঠবে।

এবার ফের পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক করে তুলেছেন কিম। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে মার্কিন ও উত্তর কোরীয় সামরিক কর্তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে জরুরি বৈঠক। কীভাবে পিয়ংইয়ংকে বাগে আনা যায় তাই নিয়ে চলছে আলোচনা।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করে কিমের সেনা। জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায় উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ওই মিসাইলটি। জাপানি ব়্যাডারে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধরা পড়তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে কোনো ক্ষতি না করে অবশ্য মাঝ সমুদ্রে আছড়ে পড়েছিল ওই মিসাইলটি। তারপরই কমিউনিস্ট দেশটিকে কড়া ভাষায় বার্তা দিয়েছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তবে কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা যুদ্ধবাজ কিমকে। তাঁর পদক্ষেপ প্রতি মুহূর্তে উসকে দিচ্ছে যুদ্ধের সম্ভাবনা।

উ. কোরিয়ার আগাম হামলা চালাবে জাপান!
উ. কোরিয়ার আগাম হামলা চালাবে জাপান!উ. কোরিয়ার আগাম হামলা চালাবে জাপান!
উত্তর কোরিয়ার দিন দিন বেড়ে চলা ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবেলায় জাপান আগেভাগেই পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সীমিত পর্যায়ে হামলার সক্ষমতা অর্জনের কথা বিবেচনা করছে। এজন্য দেশটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে বার্তা সংস্থা এপি খবর দিয়েছে।

পার্সটুডে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া জাপানের ওপর দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর জাপান পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে আগেভাবে হামলার সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি নতুন করে ভাবছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের কাছে তার দল গত মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আশংকায় তিনি তখন সে প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এখন বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা চলছে।

জাপানের ন্যাশনাল গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ নারুশিগে মিচিশিতা বলছেন, জাপানের যেকোনো জায়গায় হামলার বিষয়ে নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া; এখন জাপানের জন্য কার্যকরী ক্ষেপণাস্ত্র ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য জাপানকে সীমিত পর্যায়ে কিন্তু কার্যকর হামলার সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি আন্তরিকভাবে ভাবা উচিত।
কিমকে কড়া বার্তা!

আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে সীমান্ত বরাবর ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে বৃহস্পতিবার থেকে। উত্তর কোরিয়াকে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতেই যে এই বোমাবর্ষণ সে কথা বলাই বাহুল্য। চলতি সপ্তাহেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে নয়া ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করেছে কিম জং উনের প্রতিরক্ষা দপ্তর। আর তাই এবার ইটের জবাবে পাথর ছুড়তে প্রস্তুত আমেরিকাও। মার্কিন সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, অন্তত দু’টি বি ১বি সুপারসনিক বম্বার ও চারটি এফ-৩৬ স্টেলথ ফাইটার জেট লাগাতার দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্বে অবস্থিত একটি মিলিটারি ক্ষেত্রে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করছে।
তবে পেন্টাগন প্রকাশ্যে এই যৌথ মহড়ার কথা স্বীকার করেনি। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল এজেন্সি জানিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসী পদক্ষেপ সে দেশের পারমাণবিক গবেষণার গতি রুদ্ধ করতে পারবে না। প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য এই যৌথ মহড়া নিয়ে বিশেষ রাখঢাক রাখছে না। সম্প্রতি সিওলকে লক্ষ্য করে একটি মিসাইল ছুড়ে বসেন কিম।
তারপর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলছিল সিওল। তারা বিলক্ষণ জানে, উত্তর কোরিয়ার ‘পাগলাটে’ কিমকে শায়েস্তা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সমর্থনের দরকার। সিওল স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান মার্কিন বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার গোপন সেনাঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়ারই প্রস্তুতি চলছে বলেও হাবেভাবে বুঝিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ঠিক কী চলছে এই মুহূর্তে দুই কোরিয়ার সীমান্তে? গুয়ামে মার্কিন বিমানবাহিনীর ঘাঁটি অ্যান্ডার্সন এয়ার ফোর্স বেস থেকে দু’টি মার্কিন যুদ্ধবিমান বি-১বি উড়ে গিয়েছে কোরিয়ার সীমান্তে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে জাপানে মার্কিন বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ইওয়াকুনি থেকে উড়ে আসা চারটি এফ-৩৬ স্টেলথ ফাইটার জেট।
ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের ইঙ্গিত, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিকতম ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিরুদ্ধে জবাব দিতেই এই ব্যাপক মহড়া চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কিমকে বুঝিয়ে দেয়া যে যুদ্ধ বাধলে সে দেশেরও ক্ষতি কিছু কম হবে না। যদিও পিয়ংইয়ং সাফ জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান দেখিয়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচি আটকানো যাবে না। তবে এই মুহূর্তে কোরীয় সীমান্তে তিনটি দেশের সেনাবাহিনীই কার্যত রণংদেহী মেজাজে রয়েছে। গত ১০ ঘন্টা ধরে এই মহড়া চলছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল গুয়াম ঘাঁটি
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেন, জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ওপর দিয়ে মঙ্গলবার যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপের সামরিক ঘাঁটি। এ ঘাঁটিতে পরমাণু হামলা চালানোর প্রথম ধাপ এটি।
উত্তর কোরিয়ার বার্তাসংস্থা কেসিএনএ কিম জং-উনের বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে জবাবও দেয়া হয়েছে।
রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে এই প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দেন কিম জং-উন। প্রশান্ত মহাসাগরে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নজর রেখে আরো পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজন।

কোরিয়ান পিপল’স আর্মির (কেপিএ) সামরিক সক্ষমতার বিষয়ে বলতে গিয়ে কিম জং-উন বলেন, সাম্প্রতিক বিধ্বংসী রকেট উৎক্ষেপণের মহড়া প্রকৃত যুদ্ধের মতোই এবং এটি প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়ামে হামলার প্রথম ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের হুমকি দিলে এ মাসের প্রথম দিকে গুয়ামের পাশে ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দেয় উত্তর কোরিয়া। হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে পিয়ংইয়ং দাবি করলেও শেষ পর্যন্তু তারা কোনো হামলা চালায়নি। এ থেকে মনে করা হচ্ছিল, পরিস্থিতি হয়তো শান্তি হয়েছে।

কিন্তু মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া হোয়াসং-১২ নামে যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, তা কিম জং-উন গুয়ামে হামলায় ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তবে এটি নিক্ষেপের পথ ছিল আলাদা। জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ওপর দিয়ে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হুমকি ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার শাসক আঞ্চলিক ও বিশ্ব থেকে আরো বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ আছে।’
এদিকে, মঙ্গলবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এর আগে আন্তঃমহাদেশীয় বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাতে কানই দিচ্ছে না তারা।সূত্র নয়াদিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close