বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া জয়

0
66
TAUNTON, ENGLAND - JUNE 17: Shakib Al Hasan of Bangladesh celebrates his century with Liton Das of Bangladesh during the Group Stage match of the ICC Cricket World Cup 2019 between West Indies and Bangladesh at The County Ground on June 17, 2019 in Taunton, England. (Photo by Alex Davidson/Getty Images)

টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের দেখা পেয়েছে টাইগাররা। এতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন সাকিব, অর্ধশতক করেছেন লিটন। এই জয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশ।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৯ রানের পাহাড় ডিঙাতে নেমে ১১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দলের জয়ে ৯৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। এছাড়া ফিফটি গড়েন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা।

ইংল্যান্ডের টনটনে টস জিতে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে টাইগাররা। শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপ (৯৬) ও এভিন লুইসের (৭০) অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ৩২১ রানের পাহাড় গড়েছে ক্যারিবীয়রা। জবাবে ৫১ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই উইন্ডিজদের চেপে ধরে টাইগাররা। প্রথম ওভারে মাশরাফি মেডেন ওভার নেন। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে ওপেনার ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ১৩ বলে কোনো রানই করতে পারেননি গেইল। দলীয় ৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজরা। মেডেন উইকেট নেন সাইফ।

এরপর উইন্ডিজ দলের হাল ধরেন এভিন লুইস এবং শাই হোপ। ১১৬ রানের রানের জুটি গড়েন তারা। ইনিংসের ২৫তম ওভারে সাকিব ফিরিয়ে দেন ওপেনার এভিন লুইসকে। ব্যক্তিগত ৭০ রান করে সাব্বিরের তালুবন্দি হন তিনি। তার আগে ৬৭ বলে ৬টি চার আর দুটি ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার।

ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিকোলাস পুরান। তবে তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় উড়াতে গিয়ে লং অনে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পুরান ৩০ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৫ রান করে ফেরার সময় ৩২ ওভার ২ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৯ রান।

ঝড়ো ফিফটির পর সাজঘরে সিমরন হিটমার। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন হিতমার। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান ক্যারিবীয় এই হিটম্যান। ফিফটি গড়ার পরের বলে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন হিতমার।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন রাসেল। তার বিদায়ে ৪০ ওভারে ২৪৩ রানে ৫ উইকেট হারায় উইন্ডিজ।

এরপর ঝড় তুলেন জেসন হোল্ডার। তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ডানহাতি পেসারের লো ফুলটস বল ছক্কায় উড়াতে চেয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। লং অফে ক্যাচ নেন মাহমুদউল্লাহ। ১৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।

দলীয় ২৯৭ রানের মাথায় বিদায় নেন শাই হোপ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা শাই হোপ ইনিংসের ৪৭তম ওভারে আউট হন। মোস্তাফিজের বলে লিটন দাসের তালুবন্দি হওয়ার আগে শাই হোপ ১২১ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৯৬ রান। ইনিংসের শেষ বলে সাইফ বোল্ড করেন ১৫ বলে ১৯ রান করা ড্যারেন ব্রাভোকে। ৬ রানে অপরাজিত থাকেন ওশানে থমাস।

মোস্তাফিজ ৯ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে পান তিনটি উইকেট। সাকিব ৮ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে পান দুটি উইকেট। মাশরাফি ৮ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মিরাজ ৯ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মোসাদ্দেক ৬ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে উইকেট পাননি। সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে ৭২ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন।

৩২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধীরে খেলছিলেন তামিম। তবে অপরপ্রান্তে সৌম্য ছিলেন আগ্রাসী। রাসেলের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ৬ মারার পর পরের বলেই গেইলের ক্যাচ হয়ে ফিরলেন সৌম্য। ২৩ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ রান তুলেছেন সৌম্য।

তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৬ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করলেন সাকিব আল হাসান। মাইলফলক থেকে ২৩ রান দূরে থেকে এই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ওশানে টমাসের বলে ডাবল নিয়ে সাকিব স্পর্শ করেন মাইলফলক।

এরপর শেলডন কটরেলকে স্ট্রেট ড্রাইভ করে ক্রিজ থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছিলেন তামিম ইকবাল। ফলো থ্রুতে বলটা ধরেই দারুণ থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন কটরেল, তামিম আর ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি। ৫৩ বলে ৬ চারে ৪৮ রান করে ফেরেন তামিম। তার বিদায়ে ভাঙে ৬৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।

তামিমের পর ক্রিজে আসলেন আর গেলেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। থমাসের লেগ সাইডের ডেলিভারি মুশফিকের গ্লাভস স্পর্শ করে হোপের তালুবন্দী হয়। এতে ১ রানেই ফিরলেন মুশফিক।

মুশফিক বিদায় নেওয়ার পর সাকিব আল হাসানকে উপযুক্ত সঙ্গ দিয়ে গেছে লিটন দাস। ৪৫তম হাফসেঞ্চুরিকে শতকে পরিণত করেছেন সাকিব। এনিয়ে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৯৬ থেকে ওশানে টমাসকে দারুণ এক কাভার ড্রাইভে চার হাঁকিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৮৩ বলে সেঞ্চুরি করতে ১৩টি চার হাঁকান ওয়ানডের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

বিশ্বকাপে এটি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের চতুর্থ সেঞ্চুরি। গত বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এবার করলেন সাকিব।

মাত্র ৪১.৩ ওভারেই সাকিব-লিটনের ব্যাটে জয়ের বন্দরে পৌছায় টাইগাররা। ১২৪ রানে অপরাজিত থাকেন সাকিব। লিটনও ব্যাট চালিয়েছেন সমানতালে, অপরাজিত ৯৪ রানে। বাংলাদেশ জার্নাল