মাথা থেঁতলে ধর্ষণ, বাস থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা: পুলিশ

0
46

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী চলন্ত বাসে নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে প্রথমে মাথা থেঁতলে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তিনজনে মিলে ধর্ষণ শেষে বাস থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়। রোববার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান।

এর আগে, গত সোমবার ঢাকা থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে বাড়ি ফিরছিলেন ২৩ বছর বয়সী ওই নার্স। রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে জামতলী এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের পাশ থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী। কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেই নার্সকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আটক আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। মামলার প্রধান আসামি বাস চালক নূরুজ্জামান নূরু গতকাল শনিবার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আল মামুনের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু নিজেসহ তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছে। রিমান্ডে নেওয়ার পর চারদিনের মাথায় শনিবার নুরুজ্জামান স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

আসামি নুরুজ্জামান নুরুর বরাত দিয়ে ডিআইজি জানান, ঘটনার দিন বিকেলে তানিয়া বাসে ওঠার পর থেকে তাকে অনুসরণ করে তারা। পথিমধ্যে যাত্রীরা নেমে যায়। তানিয়াকে একা পেয়ে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসটি চালানোর জন্য সহকারী লালনকে চালকের আসনে বসায় নুরু। এরপর গজারিয়া এলাকায় ফরিদ মিয়ার কলাবাগানের পাশে নুরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা বাসের দরজা-জানালা লাগিয়ে দেয়। পরে দুজনের সহায়তায় তানিয়াকে বাসের মাঝখানে ফেলে ধর্ষণে উদ্যত হয়।

তিনি আরো জানান, ধর্ষণে বাধা দিতে তানিয়া কিল, ঘুষি মারে। পরে তাকে নিবৃত্ত করার জন্য তার মাথা ধরে বাসের পাটাতনে দুই-তিনটি বাড়ি দিয়ে থেঁতলে গুরুতর আহত করা হয়। ফলে তানিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এরপর প্রথমে চালক নুরুজ্জামান, পরে সহকারী লালন ও নুরুজ্জামানের খালাতো ভাই বোরহান পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পুলিশের ডিআইজি জানান, তানিয়াকে ধর্ষণের পর বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তারা। পরে পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। চালক ও তার সহকারী এ সময় তানিয়া বাস থেকে অসাবধানে নামতে গিয়ে পড়ে যায় বলে প্রচারণা চালায়।

ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রিমান্ডে নেওয়া বাকি চার আসামিকেও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের আটকে সর্বাত্মক অভিযান চলছে। ধিকৃত এ ঘটনায় যারা জড়িত আছে, তাদের কেউ ছাড় পাবে না। অহেতুক যেন কাউকে হয়রানি না করা হয় এ ব্যাপারেও দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

জানা যায়, ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আজ দিনভর ঘটনাস্থল বাজিতপুর ও কটিয়াদির বিভিন্ন স্পট পরদির্শন করেন। বিকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় তার সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া, জেলার পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, নিহত নার্সের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে সিভিল সার্জন হাবীবুর রহমান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরের ১০টি স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধস্তাধস্তির কারণেই এই জখম হয়েছে। তাছাড়া নিহতের যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণের আলামত ও পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় ভিকটিমকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে গুরুতর হচ্ছে শক্ত আঘাতের কারণে তানিয়ার মাথার পিছন দিকের খুলির হাড় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। এ আঘাতের ফলে ব্যাপক রক্ত ক্ষরণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা হলেন বাসচালক নূরুজ্জামান, চালকের সহকারী লালন মিয়া এবং রফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া ও বকুল মিয়া নামের তিন ব্যক্তি।বাংলাদেশ জার্নাল