বদলে যাবে আওয়ামী লীগ

0
30

সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি আরো মজবুত করে গড়ে তুলতে একেবারেই তৃণমূল থেকেই নতুন করে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্যে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের একটি ডাটাবেজের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ছাড়া দলের কোনো ইউনিটে কী ধরণের সমস্যা রয়েছে— সেগুলো বের করে দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করায় দলে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অন্য দল থেকে আসা লোকজনই আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত করছে। তাই আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রত্যেকটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের নামের তালিকা তৈরি করা হবে।

এ ছাড়া সম্প্রতি শেষ হওয়া উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নাজুক অবস্থা ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কয়েক ভাগে বিভক্তি মোটেই ভালো চোখে দেখেনি কেন্দ্র। দলের আসন্ন সম্মেলন উপলক্ষে সাংগঠনিক সফরে সিনিয়র নেতাদের তত্ত্বাবধায়নে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সভাপতিমণ্ডলির সদস্য এবং কার্যকরী সংসদের সমন্বয়ে আট বিভাগে আটটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই বিভাগীয় কমিটির সদস্যরা সম্মেলনের আগে তৃণমূল চষে বেড়াবেন। তৃণমূলের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

এদিকে সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করতে ইতোমধ্যে নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে উপদেষ্টামণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্যদের সঙ্গে যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলী এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ একসঙ্গে বসেছি। পাশাপাশি আমরা আরো একটি কাজ করতে চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলী সদস্য এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কার্যকরী সংসদের সমন্বয়ে আমরা আট বিভাগে আটটি কমিটি গঠন করেছি। তিনি বলেন, এই কমিটির দায়িত্ব থাকবে সংগঠনকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঢেলে সাজানো, গড়ে তোলা। কোথায় কমিটি আছে না আছে সেগুলো দেখা এবং সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

দলের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক হলেও দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করছে আওয়ামী লীগ। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতোমধ্যে এইটুকু বলতে পারি, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস আমরা অর্জন করেছি এবং জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এবারের যেই নির্বাচন যেটা হয়ে গেল, যদি আপনারা নির্বাচনের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে, যেটা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এইবার একটি দলকে এভাবে সব শ্রেণি এসে সমর্থন জানায়, এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের সমর্থন করেছে। তাছাড়া কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে পেশাজীবী মানুষ। সব থেকে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার সেই নবীন ভোটার এবং আমাদের বোনেরা, নারীরা- সকলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারকে আবার তারা চেয়েছে তাদের সেবা করার জন্য। সেইভাবে তারা ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। তবে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসলেও সারাদেশের একটি জেলাতেও কাউন্সিল করতে পারেনি। হাতে গোনা দুই তিনটি কমিটির মেয়াদ থাকলেও সব কটিরই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। বেশ কয়েকটির মেয়াদ সাত বছরেরও বেশি হয়ে গেছে। বর্তমান কমিটি হাতেগোনা দু-একটি জেলায় সম্মেলন করেছে। কয়েকটি জেলায় আহ্বায়ক কমিটি থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ৭৮টি। এর মধ্যে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের মধ্যেই বেশির ভাগ জেলার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সম্মেলনের দিন এসব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি। বেশির ভাগ জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে সময় লেগেছিল এক-দেড় বছর। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আমাদের জাতীয় কাউন্সিল অক্টোবরে হবে। আমাদের সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী সম্মেলনের আগে বিভিন্ন ইউনিটে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করেই জাতীয় কাউন্সিল করা হয়। এবারও সেভাবে করা হবে।বাংলা জার্নাল