রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যথেষ্ট নয়

0
22

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর দেশটির চালানো নির্যাতন নিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তদন্ত পরবর্তী বক্তব্য নিয়ে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠি। তারা মনে করছে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য এবং পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

গত সোমবার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর বিশাল পরিসরে হত্যাকা- এবং ধর্ষণ চালিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সৈনিকরা নাবালক শিশুদের জলন্ত আগুনে ছুঁড়ে মেরেছে বলেও বিভিন্ন স্বাক্ষির বরাত দিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে।

১ হাজারের বেশি স্বাক্ষির স্বাক্ষের ভিত্তিতে এ রিপোর্টটি তৈরী করা হয়েছে। এদের কেউ কেউ জানিয়েছেন মিয়ানমারের সেনারা গর্ভবতী নারীদের পেট চিরে ভ্রুণ বের করে ফেলার মতো বিভৎস ঘটনাও ঘটিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে এ গণহত্যা পূর্ব পরিকল্পিত ছিলো। কিন্তু এতো কিছুর পরেও পুরো রিপোর্টের কোথাও এ ঘটনাকে গণহত্যা কিংবা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়নি। এমনকি এখানে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়নি।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ-বার্মিজ শিক্ষাবিদ এবং ‘দ্য স্লো-বার্নিং জেনোসাইট অফ মিয়ানমার’স রোহিঙ্গা’ বই এর লেখক মাউং জিরনি ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন‘যুক্তরাষ্ট্রের এ আচরণ হতাশাব্যঞ্জক। এটি রুয়ান্ডা বা অন্য স্থানের মতো নয় যেখানে সরকার পতনের পরই গণহত্যার কথা জানা গিয়েছিলো। এখানে গণহত্যা এখনও চলমান।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচও যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এর সমালোচনা করেছে। তারা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের উচিৎ এ ঘটনার জন্য দায়ীদের ওপর অবরোধ আরোপ করা উচিৎ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়াশিংটন পরিচালক সারাহ মোরাং বলেন, ‘স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে প্রমাণ হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিত বর্বরতা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ভয়েস অব আমেরিকা