সিয়াম সাধনা ‘অটোফেজি’কে তরান্বিত করে, গবেষণায় ওসুমির নোবেল লাভ

0
35

বার্ধক্য এবং কোষের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য অটোফেজির ব্যর্থতাই দায়ী বলে মনে করা হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানে। আর মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষের সেই ’অটোফেজি’কে তরান্বিত করে। নানা ধরনের রোগবালাই (স্টোক, হৃদরোগ ও মানসিক রোগ ইত্যাদি) থেকেও মানুষকে নিরাপদ রাখে, শরীরের ক্ষয়রোধ করে। ফলে শারীরিক সুস্থতা ও বিকাশে আমাদেরকে যথাযথভাবে মাহে রমজানের রোজা পালন করা উচিত।

‘অটোফেজি’ সেল বায়োলজির (কোষ জীববিজ্ঞান) ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন জাপানের ইয়োশিনোরি ওসুমি।

অটোফেজি শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে—ভক্ষণ বা নিজেকে খেয়ে ফেলা।

জীবদেহ কেমন করে ত্রুটিপূর্ণ কোষ ধ্বংস করে নিজের সুরক্ষা করে এবং কোষ কিভাবে নিজের আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করে সুস্থ থাকে, তিনি সেই রহস্য বের করেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অটোফেজি।

সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় কোষগুলো টুকরো টুকরো করা এবং পুরাতন কোষের পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া হিসাবে অটোফেজিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে।

ভাঙ্গনের এই প্রক্রিয়ায় ‘পার্কিনসন্স’ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

অটোফেজি কোষ ফিজিওলজির (শারীরবিদ্যা) একটি মৌলিক প্রক্রিয়া; যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং রোগের জন্য প্রধানত দায়ী।

ক্ষতিগ্রস্থ কোষ বিভাজনের পুনর্ব্যবহার এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ের জন্য অটোফেজি প্রক্রিয়া অত্যন্ত অপরিহার্য।

বার্ধক্য এবং কোষের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য অটোফেজির ব্যর্থতাই দায়ী বলে মনে করা হয়।

১৯৬০ এর দশকে গবেষকরা প্রথমবারের মতো দেখতে পান যে, কোষ নিজের ভেতরে একটি বস্তার মতো ঝিল্লি তৈরি করে নিজের আবর্জনা বা ক্ষতিগ্রস্ত উপাদানকে তার ভেতরে আটকে ফেলে এবং ‘লাইসোজম’ নামক একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কম্পার্টমেন্টে সেগুলোকে পরিবাহিত করার মাধ্যমে কোষ তার নিজস্ব বিষয়বস্তু ধ্বংস করতে পারে।

অটোফেজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জিনসমূহের সনাক্তকরণের জন্য ইয়োশিনোরি ওসুমি বিজ্ঞানী বেকারের এককোষী ছত্রাক ‘ইস্ট’ ব্যবহার করেন।

তারপর তিনি ইস্টে অটোফেজির জন্য অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখিয়েছেন যে, অনুরূপ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি মানুষের কোষে ব্যবহৃত হয়।

ইয়োশিনোরি পৃথিবীতে সর্ব প্রথম অটোফেজি নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি লক্ষ্য করেন লাইসোজম শুধু দেহের আবর্জনা বা ক্ষতিগ্রস্ত উপাদান জমা করে রাখে না। এটা রিসাইক্লিং চেম্বার বা নবায়নযোগ্য শক্তিব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে নতুন কোষ তৈরি করে।

জুরি বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কিভাবে সেল তার বিষয়বস্তুকে পুনর্ব্যবহার করছে তা বুঝতে ইয়োশিনোরি ওসুমির আবিষ্কারগুলি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘অটোফেজি জিনের মিউটেশন বা পরিবর্তনের ফলে রোগের সৃষ্টি করতে পারে এবং ক্যান্সার ও স্নায়ুতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অবস্থায় অটোফেজিক প্রক্রিয়া জড়িত।’

ওসুমি জাপানের ফুকুকায় জন্মগ্রহণ করেন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ও ১৯৭৪ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল ফেলো ছিলেন। তিনি বর্তমানে টোকিও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করছেন।আরটিএনএন