অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে হবে: জাতিসংঘ মহাসচিব

0
75

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পালানো অব্যাহত থাকায় মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করার সাহসী পদক্ষেপ নিতে বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব এ আহ্বান জানান।

সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের মতো মানবিক সংকট ছড়িয়ে পড়ায় মিয়ানমারের বিষয়ে আট বছর পর এই প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদে উন্মুক্ত বৈঠক হল। তবে বৈঠকে কোনো যৌথ প্রস্তাবে (রেজুলেশন) উপনীত ব্যর্থ হয় পরিষদ।

১৫ সদস্যের পরিষদে দেয়া বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব মিয়ানমারকে অবিলম্বে সেনা অভিযান বন্ধ করতে এবং রাখাইনে ত্রাণসামগ্রীর উন্মুক্ত প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে উঠছে যে শরণার্থী সংকটের দ্রত অবনতি হয়ে মানবিক সংকট ও মানবাধিকারের দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, রাখাইন রাজ্যে থাকা রোহিঙ্গাদের তিন ভাগের দুই ভাগ পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এ সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যের মধ্যভাগের দক্ষিণে আরও আড়াই লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার সেনার ‘পদ্ধতিগত সহিংসতা’র কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তিনি রাখাইনের প্রকৃত বাস্তবতা পদক্ষেপ দাবি করেন। মজলুম মানুষকে রক্ষা, দুর্ভোগ দূর, পরবর্তী অস্থিতিশীলতা রোধ, পরিস্থিতির মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মিয়ানমার সরকারকে তিনটি বিষয় মেনে নিতে হবে। প্রথমত রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত মানবিক সহায়তার জন্য আক্রান্ত এলাকাগুলোতে অবাধে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। তৃতীয়ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানরা কার্যত রাষ্ট্রহীন প্রান্তিক সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে।  মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা-ধর্ষণ ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।

এ সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের একটি সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় সাত রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মিয়ানমারের অন্য অংশে ও বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
গুতেরেস বলেন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে,  যাদের মধ্যে ৯০ ভাগই রোহিঙ্গা।

তিনি বলেন, পালিয়ে নারী, শিশু এবং বয়স্ক মানুষদের কাছ থেকে তাদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা আমরা জেনেছি। তাদের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর সহিংসতা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা জেনেছি।

রাখাইনের চলমান সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে গুতেরেস বলেন,ফলে সংঘাত চরমপন্থার দিকে রূপ নিতে পারে এবং নারী ও শিশুরা পাচারের শিকার হতে পারে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও দুবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছিল নিরাপত্তা পরিষদ। প্রথম বৈঠকে চীন ও রাশিয়ার বাধার মুখে কোনো বিবৃতি দিতে পারেনি পরিষদ। তবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠক শেষে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল পরিষদ।সূত্র যুগান্তর